দেশের বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট এক বিশেষ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সারা দেশে আপাতত সব ধরণের লাইনের গ্যাসের চাপ কম থাকবে বলে অত্যন্ত জরুরি একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি ও বিশেষ বার্তায় পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে দেশের সাধারণ গ্রাহকদের উদ্দেশ্য করে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
পেট্রোবাংলা তাদের আনুষ্ঠানিক ওই বার্তায় আরও জানিয়েছে যে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট তীব্র দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীস্থ সমুদ্রের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)-এ নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কার্গোর ডেলিভারি বা খালাস করার মূল কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ে শুরু করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আর ঠিক এই কারিগরি কারণে মহেশখালীর ওই এফএসআরইউ টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আরএলএনজি সরবরাহ বা গ্যাস সরবরাহের নিয়মিত দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৩০০ এমএমসিএফডি (মিলিয়ন কিউবিক ফিট পার ডে) বা ঘনফুট মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। জাতীয় গ্রিডে হুট করে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের এই ঘাটতি দেখা দেওয়ার ফলেই মূলত মূল পাইপলাইনে গ্যাসের সার্বিক চাপ অনেকখানি কমে গেছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই জরুরি বার্তায় দেশের সাধারণ ও শিল্প গ্রাহকদের সচেতন করে স্পষ্ট বলা হয়, সাগরে বিদ্যমান এই প্রাকৃতিক ও উদ্ভূত পরিস্থিতির সন্তোষজনক উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এবং টার্মিনাল থেকে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে এলএনজি খালাস ও সরবরাহ সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে ঢাকা মহানগরীসহ সকল জেলা ও অঞ্চলের সকল শ্রেণির আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের এক ধরণের স্বল্পচাপ বা তীব্র সংকটের সৃষ্টি হতে পারে এবং এই পরিস্থিতি সার্বিকভাবে বিরাজ করবে। প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট এই হঠাৎ করে হওয়া জাতীয় সংকটে দেশের সম্মানিত গ্রাহকদের যে সাময়িক ও অনাকাঙ্ক্ষিত অসুবিধা হচ্ছে, তার জন্য পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
একই সাথে সংস্থাটি জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং সাগর শান্ত হওয়া মাত্রই এলএনজি কার্গোর খালাস কাজ শুরু করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। তবে জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং ভারী ও মাঝারি শিল্প কারখানাগুলোতে গ্যাসের এই আকস্মিক স্বল্পচাপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের এই সাময়িক পরিস্থিতি ধৈর্য্যের সাথে মোকাবিলার অনুরোধ জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান।