দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ জনে। একই সময়ে নতুন করে শত শত শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত দুই শিশুর একজন ঢাকা বিভাগের এবং অন্যজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৫৪ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে উপসর্গজনিত ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৪৭।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮১৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২৮ জন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৩ হাজার ১৯৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯২ হাজার ৩১ জন রোগী। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৮ হাজার ৪১৯ জন। বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অর্থাৎ এ সময়ে যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া রোগটির বিস্তার ও জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশে হামের সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।