দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দেশের পাঁচটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্টে তিনটি প্রধান নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ওপর আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে দেশের বেশ কয়েকটি জেলার নদী অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
রোববার (১২ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের স্বাক্ষর করা নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।
সরকারি এই সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী দুই দিনের মধ্যে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি অঞ্চলের মুহুরী, ফেনী নদী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কিছু জায়গায় বিপৎসীমা পার হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে সাময়িক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদ-নদীর এই উপচে পড়া পানির প্রভাবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বেশ কয়েকটি নদীর পানি বেড়ে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সাথে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বাড়ছে, যার ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হানা দিতে পারে।
তবে এর মধ্যেই কিছু স্বস্তির খবরও রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করতে পারে। পাশাপাশি মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কয়েকটি নদীর পানি হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সেসব এলাকার চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।