ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল, ২৪ ঘণ্টায় ঝরল আরও ৭ প্রাণ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৫:৩৪ পিএম

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ ও এর উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে ১ জন এবং হামের উপসর্গ (সন্দেহজনক হাম) নিয়ে ৬ জন মারা গেছেন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, চলমান এই স্বাস্থ্য সংকটে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত মাত্র চার মাসের ব্যবধানে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ৬৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৯৫ জন। অর্থাৎ, এই নির্দিষ্ট সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে সর্বমোট ৭৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৮৬৮ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ ১৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। একই সময়ে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৭৩৫ জনে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১২২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬ হাজার ২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা ও সেবা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৯২ হাজার ৩৮৩ জন রোগী। বাকি রোগীরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও সংক্রামক রোগ, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও টিকা না নিলে বিশেষ করে শিশুদের জন্য মারাত্মক বা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। হঠাৎ করে দেশে হামের এমন প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধির পাওয়ায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার এবং শিশুদের দ্রুত হামের টিকা (এমআর) নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর