ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৫:৫২ পিএম

সিলেটের ঐতিহাসিক মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত ও খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ শুনানিতে মোট ২৫ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য এবং আদালতে উপস্থাপিত অকাট্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞ বিচারক এই রায় প্রদান করেন। রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডিত সাইফুর রহমান সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. তাহিদ মিয়ার ছেলে।

রায়ে অপর তিন আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেকের ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সাথে মামলার অন্য একটি ধারায় এই তিন আসামিকে অতিরিক্ত ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় সাজা একই সাথে কার্যকর হবে।

অন্যদিকে মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত বাকি চার আসামি রবিউল হাসান ওরফে ইসলাম, মাহফুজ রহমান মাসুম, মো. আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল এবং মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা বা আইনি জটিলতা না থাকলে অবিলম্বে কারামুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগে বিজ্ঞ বিচারক আদালতে ৯১ পৃষ্ঠার এক দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ পড়ে শোনান। এর আগে গত ৮ জুলাই উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি (১৪ জুলাই) ধার্য করেছিলেন।

আদালতের নথি থেকে জানা যায়, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৫ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন স্বয়ং নির্যাতিত তরুণী ও তাঁর স্বামী, আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের একজন অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ঘুরতে আসা এক নববিবাহিত তরুণীকে তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এই নজিরবিহীন ও বর্বরোচিত ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় আটজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে তিন দিনের মধ্যে এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন এবং ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষায় ছয়জন আসামির শারীরিক আলামতের সাথে ধর্ষণের অকাট্য মিল খুঁজে পাওয়া যায়। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় দেওয়া হলো।


এ সম্পর্কিত আরো খবর