ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

হামের তাণ্ডব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি, আক্রান্ত সহস্রাধিক


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৩:৫৬ পিএম

দেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫টি শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৯২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অথবা তাদের শরীরে হামের স্পষ্ট উপসর্গ দেখা গেছে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য প্রয়াত ৫টি শিশুই হামের নানাবিধ জটিল উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। তবে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামের সংক্রমণে এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সরকারি হিসেব মতে, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৭৭১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের শরীরে হামের সাধারণ লক্ষণগুলোর পাশাপাশি মারাত্মক কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, যা দ্রুত চিকিৎসার আওতায় না আনলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। সাধারণত তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ ওঠার মাধ্যমে এই রোগের সূচনা হয়। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও পুষ্টির অভাব ঘটলে এটি নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া কিংবা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সকল অভিভাবককে তাদের শিশুদের বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে নয় মাস থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা বা এমআর (Measles-Rubella) ভ্যাকসিন যথাসময়ে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কোনো শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর এবং লালচে দানার মতো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই তাকে নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল সচেতনতা এবং সময়োচিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সারা দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষ শয্যা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন এবং টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশুদের তালিকা তৈরি করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর