ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

প্রযুক্তির অপব্যবহার ও পাচার রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:২১ পিএম

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের তৎপরতা দমন এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান রুখতে নতুন আইন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সময়ের সাথে সাথে অপরাধীদের কৌশল প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। আর এই পরিবর্তনশীল অপরাধমূলক কৌশলের সাথে শক্তভাবে লড়াই করতে এবং আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতেই এই যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ বিষয়ক এক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে আমাদের শূন্য সহনশীলতা বা 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় থাকবে। শক্তিশালী আইন প্রণয়ন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আধুনিক বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নতুন এই আইনটিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তঃদেশীয় এবং সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় এই আইনটি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে কেবল আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং দেশের সুশীল সমাজের সম্মিলিত ও নিবিড় সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।

নতুন আইনের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই আইনে প্রথমবারের মতো মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালানকে দুটি পৃথক ও সুস্পষ্ট অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর ফলে অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট ধারায় আইনের আওতায় আনা সহজ হবে। এছাড়া, অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমনের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অপরাধের শিকার ভুক্তভোগী ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সুরক্ষায় অত্যন্ত কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে এই জাতীয় অবহিতকরণ সভার আয়োজন করে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় দেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়ন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ও অভিন্ন ধারণার সৃষ্টি করা। সভার উন্মুক্ত আলোচনায় তদন্ত পর্ব থেকে শুরু করে চূড়ান্ত রায় বা বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন এই আইনের পটভূমি, যৌক্তিকতা এবং এর প্রধান প্রধান ধারা বা বিধানগুলো একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরেন। এরপর উপস্থিত অতিথিরা আইনটির সফল প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনা সভায় অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই বিশেষ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

জাতীয় পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন। একই সাথে কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাসমূহ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর