দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক, নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা জাতির সামনে প্রকাশ করবে বর্তমান সরকার। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
এদিন জাতীয় সংসদের অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রশ্নোত্তর পর্বের একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সম্পূরক প্রশ্নটি উত্থাপন করেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম।
এমপি আনোয়ারুল ইসলাম তাঁর প্রশ্নে বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে যে দলই ক্ষমতায় আসে, তারা নিজেদের দলীয় কিছু লোকজনকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। আবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে নতুন সরকার এসে সেই পূর্ববর্তী তালিকা থেকে নাম ছাঁটাই কিংবা নতুন করে বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও আজ জাতি কেন প্রকৃত ও বিতর্কহীন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা জানতে পারছে না—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি জানতে চান, বর্তমান সরকারের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে কিনা।
সংসদ সদস্যের এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দলের আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। তিনি নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি জনগণের রায়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দলটির একটি পবিত্র রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী অতীতে তালিকা তৈরিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও গাফিলতির কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করা যাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব ছিল, তারা দুর্ভাগ্যবশত সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এই তালিকা প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা ও সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা তালিকাকে বিতর্কিত করেছে।
তবে বর্তমান সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, পূর্ববর্তী সব জটিলতা কাটিয়ে এবার দেশের বরেণ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের মাধ্যমে কাজ চলছে। বর্তমান সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করছে যাতে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি নির্ভুল, পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত করা যায় এবং তা চিরতরে জাতির সামনে প্রকাশ করা সম্ভব হয়।