আবাসিক হলগুলোতে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণের প্রতিবাদে এবং ঘোষিত নতুন নোটিশ প্রত্যাখ্যান করে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হলের ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর দাবিতে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন শহীদ মামুন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
সোমবার রাত ১০টার দিকে শহীদ মামুন ছাত্রাবাস থেকে এক প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তিতুমীর কলেজের মূল ফটকে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষোভ ও দাবির কথা তুলে ধরেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সোমবার কলেজ প্রশাসনের জারি করা একটি নতুন প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, অপরাজিতা ছাত্রী নিবাস এবং শহীদ মামুন হলের (লিফট সুবিধাসহ) বার্ষিক হল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে লিফট সুবিধা ছাড়া সুফিয়া কামাল ছাত্রী নিবাস ও সিরাজ ছাত্রী নিবাসের হল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টাকা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দাবির মুখে প্রশাসন ফি মাত্র ২০০ টাকা হ্রাস করেছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এক ধরনের তামাশা ও প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এ সংক্রান্ত নোটিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং নোটিশ বোর্ডে ছড়িয়ে পড়ার পরই শহীদ মামুন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয় এবং তারা রাজপথে নেমে আসেন।
মিছিল শেষে আন্দোলনকারী মামুন হলের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হল ফি কমানোর বিষয়ে তারা এর আগে অধ্যক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের অন্যান্য ক্যাম্পাসের তুলনায় তিতুমীর কলেজের আবাসিক হলের ফি সবচেয়ে বেশি ধার্য করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার সময় অধ্যক্ষ আশ্বাস দিয়েছিলেন যে অন্তত এক হাজার টাকা পর্যন্ত হল ফি হ্রাস করে নতুন প্রজ্ঞাপন দেওয়া হবে। কিন্তু সোমবারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় মাত্র ২০০ টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা এই লোক দেখানো ও অগ্রহণযোগ্য নোটিশ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছেন এবং অবিলম্বে অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের এই হল ফি কমানোর আন্দোলন গত কয়েকদিন ধরেই চলমান ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো ফি কমানোর দাবিতে ধারাবাহিকভাবে স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।
এরই অংশ হিসেবে গত ১৯ জুলাই হল ফি কমানোর দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদলের একাংশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তার আগে ১৬ জুলাই কলেজ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল ইসলামী ছাত্রশিবির। একের পর এক দাবিপত্র ও অবস্থান কর্মসূচির পরেও প্রশাসনের তরফ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সামান্য টাকা ছাড় দিয়ে নোটিশ জারি করায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।