জন্মগত জটিল শারীরিক রোগে আক্রান্ত দুই বছর বয়সী শিশু আনিফা আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিশুটির অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। বিষয়টির তীব্রতা অনুধাবন করে তিনি শিশুটির যাবতীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবারকে সার্বিক সাহায্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক ও অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মোহাম্মদ আমানুল্লাহ আমানের চিকিৎসা পরিকল্পনায় এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের পরিচালনায় একটি প্রতিনিধি দল সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সশরীরে হাজির হন। তারা সেখানে ভর্তি থাকা শিশু আনিফার বর্তমান শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং চিকিৎসায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে উদ্যোগ নেন।
পরবর্তীতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড আনিফার সকল পরীক্ষার ফলাফল ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র বিশদ পর্যালোচনা করে। পর্যালোচনা শেষে বোর্ডের চিকিৎসকেরা শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শীঘ্রই চীন থেকে বাংলাদেশে আগমন করতে যাওয়া একটি বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের কাছে আনিফার শারীরিক জটিলতার সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হবে। দেশীয় চিকিৎসকদের সাথে চীনা প্রতিনিধি দলের যৌথ পর্যালোচনার পরেই চূড়ান্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি অবস্থাভেদে যদি প্রয়োজন পড়ে, তবে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে স্থানান্তরের বিষয়েও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পরিবারের সাথে সরাসরি কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি ও শুভকামনার বার্তা পৌঁছান।