ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৩:২৭ পিএম

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে ব্যাপক মূলধন বিনিয়োগ ও ব্যবসা প্রসারের খোলা আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন নতুন ও দূরদর্শী সরকার চায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসুক, নতুন নতুন উদ্যোগ পরিচালনা করুক এবং ব্যবসায়িক পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি করুক। বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও নীতিগত সুরক্ষার দেওয়ার বিষয়ে সরকার পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক ‘এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—যিনিই বাংলাদেশে নতুন মূলধন বিনিয়োগ করবেন, সরকার প্রয়োজনীয় সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী আধুনিক নীতিমালার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল কোনো মৌখিক আশ্বাস নয়, ইনশাআল্লাহ এটি আমাদের সরকারের অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশি-বৈদেশিক করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বিশ্ব বাণিজ্য মানচিত্রে বাংলাদেশ দিন দিন বিনিয়োগের অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য হয়ে উঠছে।

বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ দেশের সার্বিক কর্মসংস্থান তৈরি, আধুনিক ও বিশ্বমানের প্রযুক্তির প্রবর্তন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অপরিসীম ভূমিকা রাখছে। এজন্য তিনি উপস্থিত সকল বিনিয়োগকারীদের প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

নিজের অতীতের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, সক্রিয় রাজনীতিতে আসার পূর্বে তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই বাস্তবিক অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনুধাবন করেছেন, কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগের সফলতা কেবল উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত দক্ষতা কিংবা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না; বরং একটি সরকারের দূরদর্শী ও প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালাই আসল ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রয়েছে দ্রুত প্রসারমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও কর্মক্ষম বিপুল মানবসম্পদ, ভৌগোলিক কৌশলগত সুবিধা এবং জনগণের স্পষ্ট সমর্থপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এসব উপাদানই বাংলাদেশকে টেকসই সমৃদ্ধির পথে দ্রুত এগিয়ে নেবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে সুদৃঢ়ভাবে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

সহজ ব্যবসার পরিবেশ তৈরির নিশ্চয়তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ মাসে সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, দ্রুত বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি, কর ও মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা নিজ দেশে সহজে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করেছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার শক্তিশালীকরণ, নতুন স্টার্টআপে বিশেষ প্রণোদনা, অপ্রয়োজনীয় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য হ্রাস, সরকারি সেবার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন এবং বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নে সার্বিক কাজ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বৃহৎ অর্থনীতিতে উন্নীত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, পোশাক শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেবল মূলধন বিনিয়োগকারী না হয়ে বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাময় রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।



এ সম্পর্কিত আরো খবর