শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণে রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও সুযোগ রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি যদি নিজের ইচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান, তবে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশ্যে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত গুঞ্জন নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপাতত এটি একটি গুঞ্জন হিসেবেই দেখা যাচ্ছে। তবে যদি বিষয়টি বাস্তবে ঘটে বা এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন তা নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ ও বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে নিজের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে অপারগ হন, তবে সংবিধানেই তার সমাধানের সুযোগ দেওয়া রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আগ বাড়িয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্যও করছে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর খোদ রাষ্ট্রপতিই ভালো দিতে পারবেন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির সাথে কোনো ফোনালাপ হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ ধরনের কোনো বিষয়ের তথ্য তার জানা নেই।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। স্পিকার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর সংবিধানের বিধান অনুসরণ করে পরবর্তী সকল রাষ্ট্রীয় ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে কে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন বা কীভাবে শূন্য পদ পূরণ করা হবে, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। বর্তমানে তিনি নিজে এবং সরকার এসব খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে উল্লেখ করেন।