ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে শেখ হাসিনার ফোনালাপ সংক্রান্ত যে দাবি বিভিন্ন মাধ্যমে উঠেছে, সে সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘‘এটি কল্পনার বাইরে।’’ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তা ও প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই ফোনালাপের বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন।
বুধবার থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। বেশ কয়েকটি মাধ্যমে দাবি করা হয়, সম্প্রতি লন্ডনে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি দুই-একদিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে খোদ রাষ্ট্রপতির এই সরাসরি অস্বীকারের পর বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করার পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানামুখী গুঞ্জন চলছিল। সরকারের শুরু থেকেই অনেকে মনে করেছিলেন হয়তো বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে পরিবর্তন করে নতুন কাউকে এই পদে বসানো হতে পারে। তবে এর পর থেকে সরকারপ্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সকল অনুষ্ঠানে নিয়মিতই যোগ দিতে দেখা গেছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাকে অপসারণের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিতও এতদিন পাওয়া যায়নি।
তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের গুঞ্জনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতির ফোনালাপ সংক্রান্ত এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এই মুহূর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হওয়ায় এবং যদি বাস্তবে এমন কিছু ঘটে থাকে, তবে সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উপযুক্ত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেখবে।
অপরদিকে সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট নিয়ম তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি চাইলে যেকোনো সময় স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। যদি সত্যিই তিনি ইস্তফা দেন, তবে বিএনপি তাদের পছন্দ বা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ পাবে। বর্তমানে ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির ফোনালাপ ও পদত্যাগের যে খবরের সৃষ্টি হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনেই সীমাবদ্ধ থাকে নাকি কোনো বাস্তবে রূপ নেয়, সেদিকেই দেশবাসীর কৌতূহল বাড়াচ্ছে।