ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

আজ বা কালের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:২৮ এএম

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ রোববার বা আগামীকাল সোমবারের মধ্যে বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন। তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করার পরপরই সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বঙ্গভবন ছাড়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত তাঁর নিজ বাসভবনে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে গিয়ে দাপ্তরিক কাজকর্ম সম্পন্ন করলেও তিনি তাঁর বর্তমান বাসস্থান অর্থাৎ সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করবেন।

বঙ্গভবন ও সরকারি উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পদত্যাগী বা বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে এক মাস পর্যন্ত বঙ্গভবনে অবস্থান করতে পারেন। তবে মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দ্রুত বঙ্গভবন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু করেছেন। আজ রোববারের মধ্যে সমস্ত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শেষ হলে তিনি আজই বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন, অথবা আগামীকাল সোমবারের মধ্যে বঙ্গভবন ত্যাগ করবেন। পদত্যাগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে এক ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। উক্ত নৈশভোজে বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমন্ত্রিত ছিলেন এবং তাঁরা অংশ নেন। বিদায় নেওয়ার আগে আরও কিছু আনুষ্ঠানিক কার্য সম্পাদন করার কথা থাকলেও সেগুলো চূড়ান্তভাবে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠান মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তগত হওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন স্পিকার। সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগপত্র পাওয়ার তথ্য জানানোর পাশাপাশি দেশের সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেন। নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই দেশের সর্বোচ্চ এই সাংবিধানিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকাকেই পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাব অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই দেশের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবনে চলছে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের কাজ। বাড়ির নিচতলার অভ্যর্থনা ও বসার কক্ষটি নতুন করে রং করা হচ্ছে এবং ভেতরের আসবাবপত্র বিশেষভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। গৃহ ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, আর কিছুদিনের মধ্যেই সাবেক রাষ্ট্রপতি পরিবারসহ নিজ বাসায় ফিরতে পারেন—এমন বার্তা পেয়েই এই তড়িৎ প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে মো. সাহাবুদ্দিন গুলশানের ওই বাড়িটির পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

গতকাল শনিবার সকালে গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত ওই বাড়িটিতে গিয়ে জোরকদমে প্রস্তুতির চিত্র দেখা যায়। বাড়ির সামনে গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য অবস্থান করলেও সে সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বিশেষ সদস্যকে তদারকিতে দেখা যায়নি। বাড়ির ব্যবস্থাপক কবির হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ঠিক কোন দিন বা কখন আসবেন সে বিষয়ে তারা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তবে তাঁদেরকে পুরো বাসা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ব্যবহারের উপযোগী করে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মীরা নিরলস কাজ করছেন। তিনি আশা করছেন খুব শিগগিরই স্যার নিজের বাসায় চলে আসবেন।

সরেজমিনে বাড়ির নিচতলায় গিয়ে দেখা যায়, গাড়ি পার্কিং এলাকার পাশেই একটি বড় বসার কক্ষ রয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকটি সোফা ও টেবিল সাজানো। আসবাবপত্রগুলো সুরক্ষার জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ঘরের এক পাশে রঙের কয়েকটি কৌটা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম রাখা রয়েছে এবং দেয়ালের পুরোনো রং তুলে নতুন রং লাগানোর কাজ চলছে। ব্যবস্থাপক আরও জানান, ঘরের দেয়ালগুলো রং করার কাজ শেষ হলে আসবাবপত্র আবার নতুন করে গুছিয়ে বসানো হবে, কারণ রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন ছেড়ে এলে বহু দর্শনার্থী ও পরিচিত মানুষ সাক্ষাৎ করতে আসবেন এবং বসবেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ কখনো শূন্য রাখার সুযোগ নেই। তাই মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এখন থেকে রাষ্ট্রের সমস্ত দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা ও বিদেশি অতিথিদের অভ্যর্থনার আচার-অনুষ্ঠান হাফিজ উদ্দিন আহমদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করে দায়িত্ব নিলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটবে।

সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মো. সাহাবুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ত্যাগ করা মাত্রই হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে গিয়ে তাঁর দাপ্তরিক কাজ শুরু করবেন। রাষ্ট্রপতি কার্যালয় ও সরকারি বাসভবন দুটিই একই বঙ্গভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত হলেও হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে অফিস করলেও তাঁর থাকার জায়গা পরিবর্তিত হচ্ছে না; তিনি সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের পরিচয়পত্র পেশ করে থাকেন এবং সফররত বিদেশি প্রতিনিধিরাও বঙ্গভবনে বৈঠক করেন। এছাড়া জাতীয় দিবসগুলোতে বঙ্গভবনে নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। ফলে রাষ্ট্রপতির সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বঙ্গভবন থেকেই সম্পাদিত হয়। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ রোববার বেলা ১১টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর