রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকা কার্গো ভিলেজের সংলগ্ন স্থানে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাতে বিমানবন্দরের কার্গো বহর এলাকার ঠিক পাশেই এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। খবর পাওয়ার পর বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা এড়াতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি জরুরি ইউনিট দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ফায়ার সার্ভিস সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ৯টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের সংরক্ষিত কার্গো ভিলেজ এলাকায় আগুন লেগেছে মর্মে ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে একটি জরুরি সংবাদ পৌঁছায়। অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তড়িঘড়ি করে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠায়।
তবে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছে নিবিড়ভাবে পুরো স্থান পরীক্ষা করে দেখে যে, মূল কার্গো ভিলেজ ভবনের ভেতরে বা এর অবকাঠামোগত কোনো পণ্যে সরাসরি আগুন লাগার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু কার্গো ভিলেজ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ময়লার স্তূপে মাঝারি ধরনের আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। কুয়াশাতুল্য সেই ধোঁয়ার স্তূপ দেখেই মূলত প্রাথমিক পর্যায়ে কার্গো ভিলেজে বড় আগুন লেগেছে বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ময়লার স্তূপের সেই আগুন ও ধোঁয়া পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে পানি স্প্রে করা শুরু করেন এবং নিরলস কাজ চালিয়ে যান। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে আগুন কোথাও ছড়াতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা রাত সাড়ে নয়টার দিকে নিশ্চিত করেন যে, সার্বিক পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে আর কোনো ধরনের আগুনের অস্তিত্ব বা নতুন করে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানিকৃত মূল্যবান পণ্য সুরক্ষার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে কার্গো ভিলেজে প্রতিদিন বিদেশ থেকে আসা কোটি কোটি টাকার তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স ও শিল্প কারখানা কাঁচামাল রাখা থাকে। ফলে এখানে কোনো ধরনের আগুনের খবর আসা মাত্রই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাকর্মী ও ফায়ার সার্ভিস সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে।
শনিবার রাতের এই অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কিছুক্ষণের জন্য বিমানবন্দর এলাকায় উৎসুক মানুষ ও কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হালকা চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতিতে বড় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো আমদানিকৃত পণ্য বা সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির কোনো আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিমানবন্দর সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিমানবন্দরের ভেতরের স্বাভাবিক বিমান চলাচল, পণ্য খালাস ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিয়মিত ফ্লাইট সংক্রান্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম একদম স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে।
অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কার্গো ভিলেজের চারপাশের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা দল ময়লার স্তূপ থেকে ধোঁয়া ওঠার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে। অসাবধানতাবশত ফেলা কোনো সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ নাকি অন্য কোনো কারণ থেকে ময়লার স্তূপে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা জানতে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। বিমানবন্দরের মতো সর্বোচ্চ সুরক্ষিত অঞ্চলে যেকোনো জায়গায় ময়লার স্তূপেও যেন ভবিষ্যতে এভাবে আগুন বা ধোঁয়া সৃষ্টি হতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদারকি দলকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।