অনলাইন ডেস্ক:
দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা) হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৬০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিত রোগী ১৭০ জন এবং উপসর্গযুক্ত রোগী ৯৯০ জন।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৮২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৯৫ জন এবং হামের উপসর্গে মারা গেছেন ৭২৫ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৭০ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯৯০ জন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে এসেছেন। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৪২ জন। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ২৩৯ জন। এ সময় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪৬৭ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের হাম প্রতিরোধে নির্ধারিত সময়ে টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জনগণকে জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, সর্দি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এনে হাম প্রতিরোধে সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।