সোমবার (২৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের নামে প্রচারিত ও বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা ডিও পত্রটি সম্পূর্ণ জাল। এটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি এবং এর সঙ্গে সংসদ কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
সংসদ সচিবালয় জানায়, রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের নাম, সরকারি লোগো, দাপ্তরিক প্যাড, স্বাক্ষর কিংবা স্মারক নম্বর জাল করে ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা ও জালিয়াতি রোধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় সংসদের নামে কোনো ডিও পত্র, সুপারিশপত্র বা সরকারি চিঠি পাওয়া গেলে সেটির সত্যতা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো পত্রের ভিত্তিতে প্রশাসনিক বা আর্থিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় মনে করছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে জাল নথি তৈরি এবং তা দিয়ে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে। তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে সর্বসাধারণ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো সরকারি পত্র বা সুপারিশপত্র পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করারও অনুরোধ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সরকারি নথি জালিয়াতির মতো ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।