রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরে মিরপুর কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে নাছিমা বেগম নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে লাভ রোড-মন্দির রোড এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রির সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য কলেজের পেছনের দেয়ালের পাশে দীর্ঘ লাইনে সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই কলেজের সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই দেয়ালের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন নারী-পুরুষ। ঘটনাস্থলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত নাছিমা বেগমকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি মিরপুর-২ নম্বর জনতা হাউজিং এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, টিসিবির পণ্য বিক্রির কারণে সেখানে প্রতিদিনই অনেক মানুষের সমাগম হয়। দুর্ঘটনার সময়ও নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি ছিল। হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়ায় অনেকে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, দেয়াল ধসের ঘটনায় নাছিমা বেগম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কী কারণে সীমানা প্রাচীরটি ধসে পড়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।