বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল অভিযোগ করেছেন যে, বিগত দিনে সময়োপযোগী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ফলেই দেশের শিল্পখাতে মারাত্মক গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং শিল্পকারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিটিএমএ সভাপতি এই আশাব্যঞ্জক তথ্য জানান।
বৈঠক প্রসঙ্গে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্ব ও মনোযোগ সহকারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের বর্তমান বাস্তব অবস্থা, গভীর সংকট ও উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি অনুধাবন করার চেষ্টা করছেন। দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে সরকারের নজিরবিহীন আন্তরিকতা ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি দেখে শিল্পোদ্যোক্তারা ব্যাপকভাবে উৎসাহিত বোধ করছেন।
তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে যেসব শিল্পকারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আংশিক সচল রয়েছে, সেগুলোর প্রকৃত অবস্থান চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কারখানার পুনরুজ্জীবনে কোথায় ঠিক কতটুকু নীতিগত সহযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রণোদনা কিংবা জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন, তা বিশদভাবে উল্লেখ করে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও বিস্তারিত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। বিটিএমএ খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর সঠিক তথ্য ও চাহিদা সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তৈরি পোশাক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সুতা ও কাপড়ের বড় একটি অংশ দেশের অভ্যন্তরীণ টেক্সটাইল মিলগুলো থেকেই সরবরাহ করা হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অনন্য অবদান রাখছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে কারখানাগুলোতে চাহিদানুযায়ী গ্যাসের অপ্রতুলতা এবং গ্যাস লাইনে কাঙ্ক্ষিত চাপ বা প্রেসার না থাকার কারণে সুতা ও কাপড় উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক মিল তাদের পূর্ণ সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম শক্তিতে চালাতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ সুসংহত করার সরাসরি আশ্বাস তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হবে। ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু হওয়ার সুযোগ পাবে এবং আংশিক চালু থাকা ইউনিটগুলো তাদের পূর্ণ উৎপাদনে ফিরতে পারবে। শিল্প উৎপাদন গতিশীল হলে জাতীয় রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে এবং দেশের অর্থনীতি আবার শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।