বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বন্যপ্রাণী রক্ষার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, বাঘ শুধু একটি বন্যপ্রাণী নয়, এটি দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই প্রাণী রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণও প্রয়োজন।
বুধবার বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আয়োজিত র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বাঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে এই প্রাণীকে সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা জরুরি।
তিনি জানান, প্রায় একশ বছর আগে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় পাঁচ হাজারে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে, বাঘের অস্তিত্ব আজ গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এই প্রজাতির অস্তিত্ব আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়তে পারে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশে সুন্দরবন এখনো রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান আবাসস্থল। বর্তমানে সুন্দরবনে ১২৪টি বাঘ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রায় ১৫টি এবং দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় মোট প্রায় ৫০টি বাঘ রয়েছে। এসব বাঘের সুরক্ষা ও পরিচর্যায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাঘ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে পারে, এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে এবং সংরক্ষণে আগ্রহী হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাঘ গণনার জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট এবং এ সংক্রান্ত স্বচ্ছতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাঘ গণনার দায়িত্ব বন বিভাগের আওতাধীন। এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তবে বন বিভাগ তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করছে। বাঘসহ অন্যান্য বিপন্ন প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর প্রতি মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাঘ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বন্যপ্রাণী রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার স্যুভেনির শপ উদ্বোধন করেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহীনুর আলম, চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদসহ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘ শুধু একটি প্রজাতি নয়, বরং একটি সুস্থ বনজ বাস্তুতন্ত্রের প্রতীক। বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি মানেই বন ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়া। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা, অবৈধ শিকার বন্ধ, বন সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষার মাধ্যমে এই বিপন্ন প্রাণীকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।