আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক অনলাইন তথ্যকোষ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নাম্বেআরও’ (Numbeo)-র ২০২৬ সালের সর্বশেষ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ ও অনিরাপদ শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বৈশ্বিক এই সূচকে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক তালিকায় অপরাপর বড় শহরগুলোর তুলনায় ঢাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক।
সূচকের পরিসংখ্যান ও ঢাকার অবস্থান:
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকার অপরাধ সূচক দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২-এ। এর বিপরীতে ঢাকার নিরাপত্তা সূচক মাত্র ৩৭ দশমিক ৮। নির্দেশক হিসেবে এই সূচক প্রকাশ করে যে, ঢাকায় বসবাসকারী কিংবা ভ্রমণকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অনুভূতির মাত্রা অত্যন্ত কম। বিশেষ করে রাতের বেলায় নগরবাসী বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবে ভোগেন এবং অধিকাংশ সময় শঙ্কিত থাকেন।
সমগ্র বিশ্বের বড় শহরগুলোর সার্বিক তালিকায় অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার দিক থেকে ঢাকা শীর্ষ ১৫ শতাংশ বা বিশ্বের ৩৫০টিরও বেশি শহরের মধ্যে ৫৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে। তুলনামূলক চিত্র বিবেচনা করলে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি বিশ্ব তালিকায় সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে। আবুধাবির অপরাধ সূচক মাত্র ১১ দশমিক ১ এবং নিরাপত্তা সূচক ৮৮ দশমিক ৯, যা বিশ্ব নিরাপত্তা মানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আঞ্চলিক তুলনামূলক চিত্র:
নাম্বেআরও’র সূচকে দেখা যায়, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের বড় বড় মহানগরগুলো নিরাপত্তার বিচারে ঢাকার চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় পাকিস্তানের করাচি ও ভারতের নয়াদিল্লি যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। উভয় শহরের অপরাধ সূচক ৫৯ দশমিক ১ এবং নিরাপত্তা সূচক ৪০ দশমিক ৯। এছাড়া ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ (৫৮.৪) ও নয়ডা (৫৫.১) এবং হরিয়ানার গুরগাঁও (৫৪.১) অপরাধ সূচকে ঢাকার পেছনে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, নেপালের কাঠমান্ডু (অপরাধ সূচক ৩৬.৭), শ্রীলঙ্কার কলম্বো (৪২.৬) এবং ভারতের কলকাতা (৪৬.৯) ও মুম্বাইয়ের (৪৪.১) নিরাপত্তা সূচক ঢাকার তুলনায় অনেক বেশি সন্তোষজনক। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ (৩১.৪) ও লাহোর (৩৬.৯)-ও বৈশ্বিক পরিমাপকে ঢাকার চেয়ে বহুগুণ নিরাপদ শহর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এক নজরে দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর তালিকা:
| শহর ও দেশ | অপরাধপ্রবণতা সূচক | নিরাপত্তা সূচক |
| ঢাকা, বাংলাদেশ | ৬২.২ | ৩৭.৮ |
| করাচি, পাকিস্তান | ৫৯.১ | ৪০.৯ |
| দিল্লি, ভারত | ৫৯.১ | ৪০.৯ |
| গাজিয়াবাদ, ভারত | ৫৮.৪ | ৪১.৬ |
| নয়ডা, ভারত | ৫৫.১ | ৪৪.৯ |
| গুরগাঁও, ভারত | ৫৪.১ | ৪৫.৯ |
| ব্যাঙ্গালোর, ভারত | ৫৪.০ | ৪৬.০ |
| রাওয়ালপিন্ডি, পাকিস্তান | ৫১.৬ | ৪৮.৪ |
| কলকাতা, ভারত | ৪৬.৯ | ৫৩.১ |
| মুম্বাই, ভারত | ৪৪.১ | ৫৫.৯ |
| কলম্বো, শ্রীলঙ্কা | ৪২.৬ | ৫৭.৪ |
| লাহোর, পাকিস্তান | ৩৬.৯ | ৬৩.১ |
| কাঠমান্ডু, নেপাল | ৩৬.৭ | ৬৩.৩ |
| আহমেদাবাদ, ভারত | ৩১.৫ | ৬৮.৫ |
| ইসলামাবাদ, পাকিস্তান | ৩১.৪ | ৬৮.৬ |
নাগরিক জীবন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব:
গবেষকদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বৃদ্ধি এবং রাতে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট ও সিসিটিভি নজরদারির অপ্রতুলতার কারণে ঢাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অনুভূতি দিনে দিনে নিম্নমুখী হচ্ছে। অপরাধী চক্রের তৎপরতা ও মূলধারার সামাজিক অপরাধ সূচকগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন শহরের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।