ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

বর্তমান সংসদের দিকে ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ নিবদ্ধ: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার


  • আপলোড সময় : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:৩৬ পিএম

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের ওপর নিবদ্ধ হয়ে আছে। মানুষ চায় সংসদ সদস্যরা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা ও যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবেন। তিনি বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সংসদের অধিকাংশ সদস্যই অতীতে জেল-জুলুম, গুম, আয়নাঘর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। যে কারণে এটি কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্বের ইতিহাসেই একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদের প্রতিটি কার্যক্রম দেশের কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে জনগণের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ করবেন—একজন স্পিকার হিসেবে এটিই তাঁর মূল প্রত্যাশা। সংসদে ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে তিনি ব্যক্ত করেন।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের পূর্বপুরুষেরা সাম্য, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বর্তমান সরকারি ও বিরোধী দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই জাতি আশা করে। রাষ্ট্র পরিচালনার সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু এই মহান জাতীয় সংসদ। এখানে সরকারি দলের আলোচনার পাশাপাশি বিরোধী দলেরও গঠনমূলক সমালোচনা করার অবারিত সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংসদীয় ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারিত হওয়া উচিত।

গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিয়ে দেশে পুনরায় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্বৈরাচারী শাসনের সূচনা হলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর ওয়ান-ইলেভেন এবং পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্রের এক নতুন অভিযাত্রা শুরু হয়েছে, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু বর্তমান জাতীয় সংসদ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্বপ্নপূরণ এবং দেশ গঠনে এই সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর