ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮৪০


  • আপলোড সময় : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৫:১৬ পিএম

সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর অত্যন্ত দুঃখজনক মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে আরও ৮৭২ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন ও বিশেষ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে কেবল হামের উপসর্গ নিয়েই প্রাণ হারিয়েছে ৭৪৪ শিশু। এছাড়া চিকিৎসা ও ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে মারা গেছে আরও ৯৬ শিশু। ফলে এ পর্যন্ত দেশে উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে সর্বমোট ৮৪০ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হামের রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১২১ জন। অন্যদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ১৮০ জন শিশুর দেহে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা যায়, দেশে কেবল গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে অন্তত ৭৫১ জনের শরীরে চরম হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার খবর রেকর্ড করা হয়েছে। সার্বিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর মোট সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬১ জনে। আক্রান্ত শিশু ও রোগীদের একটি বড় অংশ মারাত্মক শারীরিক জটিলতা নিয়ে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হামের মারাত্মক উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ জন শিশু ও রোগী। এদের মধ্যে সঠিক ও নিবিড় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাসা ও হাসপাতালে ছাড়পত্র পেয়ে ফিরে গেছে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৯৭ জন। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানেও অনেক শিশুর চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান, সাধারণত শিশুর পুষ্টিহীনতা, টিকাদানে ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যেতে পারে। শিশুদের সুরক্ষায় সঠিক সময়ে হামের টিকা প্রদান এবং উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা। শিশুদের এই সংক্রামক ব্যাধি থেকে রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে টিকাদান জোরদারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জরুরি মনিটরিং ব্যবস্থা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর