ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকের নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকের নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:৩৪ পিএম

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে যথাযথ ও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার কথা বলেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কৃষক কার্ড’ সংক্রান্ত এক বিশেষ পর্যালোচনা সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু উপস্থিত সাংবাদিকদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।


তিনি জানান, সভায় দেশের কৃষকদের ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে বলেন, প্রস্তুতকৃত প্রতিটি কৃষক কার্ড হতে হবে ছবি ও কিউআর কোড সংবলিত। এই ডিজিটাল কার্ডের মধ্যে কেবলমাত্র কৃষকের নিজস্ব পরিচয়ের তথ্যই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তাদের সার্বিক কৃষি উৎপাদন, সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির হিসাব এবং কৃষি বাজারসংক্রান্ত নানা বৈচিত্র্যময় ও প্র প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এসব কারিগরি বিষয় এবং সার্বিক তথ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিবেচনায় রেখে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত কার্ড প্রস্তুতের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আরও জানান, কৃষক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে ইতোমধ্যে কৃষকদের নামে আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর ধাপে ধাপে দেশের প্রকৃত কৃষকদের হাতে আধুনিক এই কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।


মূলত কৃষি খাতে সরকারের দেওয়া আর্থিক ভর্তুকি, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ বিতরণ, সরকারি কৃষি প্রণোদনা এবং অন্যান্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়া সরাসরি, দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছানো যায়, সেই লক্ষ্যেই সরকার এই সর্বাধুনিক কৃষক কার্ড ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, চলমান চলতি অর্থবছরেই প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক সরাসরি এই সুবিধার আওতায় আসবেন এবং নতুন উদ্ভাবিত কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পাবেন।


সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সর্বস্তরের কমবেশি ২ কোটি কৃষককে এই যুগান্তকারী কার্ড কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ে ডেটা সংগ্রাহক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে নির্ভুল কৃষক ডেটাবেজ তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।


অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের গুরুত্ববহ পর্যালোচনা সভায় সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর Shah শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন এবং বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এস এম আমীর হামজা শাতিলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিববৃন্দ ও উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর