সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এক দিনের অর্জিত ছুটি নিয়ে টানা চার দিনের অবসর যাপনের খবরটি কেবলই এক বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, যার আড়ালে রয়েছে সরকারি ছুটি বিধিমালার অজানা ও কড়া শর্ত। ৫ আগস্ট 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় সাধারণ ছুটির পর পরদিন ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ছুটি নিলেই শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে চার দিনের লম্বা ছুটি মিলবে—এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাস্তবে অর্জিত ছুটির এমন হিসাব কেবল হিসাবের খাতায় এক দিন মনে হলেও কর্মচারীর ব্যক্তিগত পাওনা ছুটির খাতা থেকে খোয়া যায় বাড়তি দিন।
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস বা সরকারি ছুটি বিধিমালা অনুযায়ী, দুই সরকারি বা সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যবর্তী কর্মদিবসে কেউ অর্জিত ছুটি নিলে এর আগের কিংবা পরের যেকোনো একটি সংলগ্ন ছুটির পর্বকে আবেদনকারীর অর্জিত ছুটির হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করে কেটে নেওয়া হয়। ফলে ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার এক দিনের অর্জিত ছুটি নিলে নিয়মানুযায়ী ৫ আগস্টের সরকারি ছুটির দিনটি কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির কোনো একটি দিন পাওনা অর্জিত ছুটি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাটা পড়বে। অর্থাৎ সাধারণ দৃষ্টিতে টানা চার দিন ছুটির সুযোগ দেখা গেলেও প্রশাসনিক হিসাবে কর্মচারীর জমানো ছুটি থেকে ক্ষয় হবে একাধিক দিন, যা আদতে কর্মচারীদের লাভের বদলে লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রশাসনিক নীতিমালার ব্যাখ্যা প্রদান করতে গিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তফা জামান জানান, সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছুটি নিয়ে যে অতিরিক্ত সুবিধার গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, আইনি ও দাপ্তরিক নিয়ম একেবারেই তার বিপরীত। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ইচ্ছা করলেই এই সুযোগ সুবিধা হিসেবে ভোগ করতে পারেন না, কারণ মাঝখানের কার্যদিবসে ছুটি মঞ্জুর করার বিষয়টিও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে। একই সঙ্গে সবাইকে এই প্রক্রিয়ায় ছুটি দিলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হবে, যার কারণে বাস্তবে এই পন্থায় ছুটি নেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। তাই বিভ্রান্তিকর বা সহজ চার দিনের ছুটির ফান্দে না পা ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।