ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি

চীনের অর্থনীতিকে আমূলে বদলে দেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝুর মৃত্যু


  • আপলোড সময় : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:০৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

চীনের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দিয়ে দেশটিকে ‘বিশ্বের কারখানা’ বানানো দূরদর্শী সংস্কারক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি মারা গেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৭ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া ও মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


তুলনামূলক কম ধৈর্যের অধিকারী ও ক্ষুরধার বাকপটু এই দূরদর্শী নেতা ১৯৯০-এর দশকে চীনের রাষ্ট্রীয় শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। ২০০১ সালে চীনকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ ও লাভজনক করে তোলার প্রক্রিয়ায় কমিউনিস্ট পার্টির রক্ষণশীল মনোভাব এবং তৎকালীন রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রধানদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন ঝু। লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারালেও তাঁর সাহসী সংস্কারের ওপর ভিত্তি করেই ২০১০ সালে জাপানকে টপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থান দখল করে নেয়।


১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঝু রংজি। তৎকালীন চীনা নেতা দেং শিয়াওপিংয়ের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে নতুন মাত্রা এনে দেওয়া এবং বাজারভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পথ সুগম করার মূল কারিগর ভাবা হয় তাঁকেই। তাঁর নেওয়া বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কারণে ২০০০ থেকে ২০১০ সালে চীনের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে স্থায়ী হয়েছিল, যা ২০০৭ সালে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়।


কাজের প্রতি একনিষ্ঠতা ও কঠোর মনোভাবের জন্য তিনি ‘বস’ কিংবা ‘পাগলা ঝু’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থেকে একবার তিনি বলেছিলেন, “আমি এখানে ১০০টি কফিন প্রস্তুত রেখেছি; ৯৯টি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য এবং একটি আমার নিজের জন্য।”


১৯২৮ সালের ২৩ অক্টোবর মাও সেতুংয়ের নিজ প্রদেশ হুনানে জন্মগ্রহণ করা ঝু কর্মজীবনের শুরুতে স্পষ্ট কথা বলার অপরাধে চরম ভোগান্তির শিকার হন। ১৯৫৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টির নীতির সমালোচনা করায় তাঁকে ‘ডানপন্থী’ তকমা দিয়ে গ্রামে শারীরিক পরিশ্রমের জন্য নির্বাসনে পাঠানো হয়। পরে ১৯৭৯ সালে পুনর্বাসিত হয়ে তিনি ১৯৮৮ সালে সাংহাইয়ের মেয়র হন এবং পরবর্তীতে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে উপবিষ্ট হন। ১৯৯৮ সালে ফ্ল্যাট বিক্রির সুযোগ দিয়ে ব্যক্তিগত আবাসন খাতের জোয়ার আনাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান, ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের সংস্কারে তিনি অভাবনীয় নেতৃত্ব দেন। অর্থনীতি সংস্কারের কিংবদন্তি হিসেবে তিনি চিনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর