ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডাব মার্কার কাগজ নিয়ে কেন্দ্রে জামায়াত এজেন্টরা: ফয়সল আমীন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অন্য তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরেই মিলল সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার পরিচয় জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ মির্জাপুরে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, বিভিন্ন স্টেশনে আটকা একাধিক ট্রেন বঙ্গোপসাগরে জাপানের ‘বিগ-বি’ ও বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড অন্ধ্র প্রদেশ, নিহত ৫ কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, কাঠগড়ায় ড্যাব

মির্জা ফখরুলের পদত্যাগে খালি হলো পোস্ট: বিএনপির নতুন মহাসচিব কে?


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ২:৫৫ পিএম

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ দলীয় রাজনীতিতে নেতৃত্বের নতুন ও ব্যাপক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার পর তিনি দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় পদটি বর্তমানে শূন্য হয়েছে। ফলে মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হতে যাচ্ছেন—তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও দলীয় হাইকম্যান্ডের অভ্যন্তরে চলছে জোর জল্পনা-কল্পনা।


দলের নীতি-নির্ধারণী ও সাংগঠনিক দায়িত্বশীলদের সূত্রমতে, পরবর্তী মহাসচিবের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নাম সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংকটময় মুহূর্তে নয়াপল্টন কার্যালয়ে উপস্থিতি, সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সর্বক্ষণিক নিবিড় যোগাযোগের কারণে দলের একটি বড় অংশের কাছে রুহুল কবির রিজভীর নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির গঠনতান্ত্রিক বিধান অনুযায়ী মহাসচিবের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র পর্যায়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকায় অনেকে তাঁকেই এগিয়ে রাখছেন।


অন্যদিকে নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের দিক বিবেচনায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নামও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিবেচনায় ওপরের সারিতে রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে কাউকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলে কেন্দ্র ও তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা আরও সহজ হবে বলে একাংশ মনে করছেন। তবে দলের গঠনতন্ত্রে স্থায়ীভাবে ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ পদ না থাকায়, জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত আপৎকালীন বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব কাকে অর্পণ করা হবে—সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম।


পাশাপাশি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরবর্তী রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হলে তাঁর নিজস্ব সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করা হবে। সে ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতায় সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে, যেখানে স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নামও ঘরোয়া আলোচনায় ভেসে আসছে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব পরিবর্তন, নতুন মহাসচিব নির্বাচন এবং শূন্য সংসদীয় আসন—সব মিলিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মেরুকরণের সূচনা ঘটেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর