বাংলাদেশের মানুষের ওপর দিল্লির আগ্রাসী রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতেই শেখ হাসিনাকে সে দেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে দিয়ে ভারত নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, "ভারত শেখ হাসিনাকে নিজেদের আত্মীয় মনে করে, কারণ তিনি ভারতের মনমতো সব সিদ্ধান্ত নিতেন এবং বিনিময়ে এ দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিয়েছিলেন। যারা তাকে আশ্রয় দিয়েছে, তারা মুলত নিজেদের স্বার্থ হাসিলের ধান্দায় রয়েছে।"
শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও তাঁর দেশত্যাগের বিষয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, "শেখ হাসিনা ফেরাউন বা নমরুদের ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ করেননি। তিনি নিজেকে চিরস্থায়ী ক্ষমতাবান মনে করেছিলেন এবং স্রষ্টার বিচার ও জনগণের রক্তচক্ষুকে বিন্দুমাত্র ভয় পাননি। তবে চূড়ান্ত বিচারে তিনি দেশের সর্বস্তরের জনতার শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।"
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের শাসনব্যবস্থা ও বিগত সরকারের বিচারে বর্তমান প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকার ন্যায় ও নিষ্ঠার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিগত বছরগুলোতে যারা বিরোধী মতের মানুষদের ওপর গুম, খুন ও নির্যাতন চালিয়েছে, দেশের মানুষ এখন তাদের কঠোর বিচার নিশ্চিত হতে দেখতে চায়।"
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পুনর্বাসনের চক্রান্তের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী আরও যুক্ত করেন, "যিনি এত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছেন, তিনি আবার বিদেশে বসে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দিচ্ছেন যে ডিসেম্বরে দেশে ফিরে রাজনীতি করবেন! এটা যেন একটা মামার বাড়ির আবদার। বিএনপি চায় শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে সমস্ত অপকর্মের উপযুক্ত বিচারের মুখোমুখি করা হোক।"