প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৫ সালের এই শুভ দিনে তিনি তৎকালীন দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর এই জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার দেশব্যাপী মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি।
গতকাল শুক্রবার সকালে বিএনপির সিনিয়র যৌথ মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আজ ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের প্রধান কার্যালয়ে কিংবা স্থানীয় মসজিদগুলোতে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল ১১টায় এক দোয়া মাহফিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদায় অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম এবং তাঁর ডাকনাম ছিল পুতুল। তাঁর বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের পৈতৃক ভিটা ফেনী জেলায় হলেও তিনি জলপাইগুড়িতে নিজ বোনের বাড়িতে অবস্থান করে পড়ালেখা করেন ও পরবর্তীতে চা ব্যবসায় যুক্ত হন। পরে পরিবারসহ তিনি দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুরের একটি মিশনারি স্কুল এবং পরবর্তীতে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন।
১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ও ঐতিহাসিক অবদান রাখেন জিয়াউর রহমান, যিনি সে সময় সেনাবাহিনীর মেজর পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, যা শুনে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করলে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে বিএনপির হাল ধরেন তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী ঐতিহাসিক আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের চরম মুহূর্তে অন্যান্য দল সমঝোতা করলেও তিনি আপস করেননি, যার ফলে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি আরও দুই দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী ফখরুদ্দীন-মউনউদ্দিন সরকারের আমলে তিনি প্রথম কারাবন্দি হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন পদে আসীন ছিলেন। বর্তমানে দলটির হাল ধরেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান, যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে দেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।