সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের পূর্বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। তবে বিচারালয়ে বিচারাধীন এই আবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আদালতের কোনো বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার বা এখতিয়ার তাঁর নেই।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব এই বক্তব্য প্রদান করেন।
আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষে আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমেদের নামে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা পড়ে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, আজ নির্ধারিত দিনে জমা পড়া সবকটি মনোনয়নপত্র গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এলডিপির প্রার্থীর অনুকূলে দুটি এবং বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে একটি মনোনয়নপত্র কমিশন হস্তগত করেছিল। সকালের অধিবেশনে যাচাই-বাছাই শেষে অলি আহমেদের মনোনয়নপত্রে যথার্থতা পাওয়ায় তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। পরবর্তীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দাখিল করা মনোনয়নপত্রটিও ত্রুটিমুক্ত এবং বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে নির্বাচনে এই দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই সমানভাবে বৈধ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সচিব বলেন, প্রার্থীরা চাইলে আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন। আর একক বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বেলা ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে।