ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

অজি বধের পরও শান্তর পা মাটিতে

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কথা নয়, চোখ পরের ম্যাচে: শান্ত


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:০০ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে গুঁড়িয়ে দিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট বিজয়ের পর বাংলাদেশ দলের সামনে এখন রূপকথার সিরিজ জয়ের সোনালী সুযোগ। ডারউইন টেস্টের এই মহাকাব্যিক জয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী হলেও, আবেগ ভেসে গিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল কিংবা সিরিজ জয়ের জটিল সমীকরণ নিয়ে এখনই আলাদা করে কিছু ভাবতে চান না লাল-সবুজের অধিনায়ক। তাঁর মূল লক্ষ্য—ম্যাচ ধরে ধরে সামনে এগোনো এবং নিজেদের সঠিক ক্রিকেটীয় প্রক্রিয়া বজায় রাখা।


ডারউইনে বাঁধভাঙা জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্নের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অধিনায়ক শান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘বাংলাদেশ টেস্ট দলের দীর্ঘ পথচলায় এটি একটি বিশাল ও স্মরণীয় অর্জন। আমি আগেই বলেছি, এটি আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে বড় জয়। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল বা অনেক দূরবর্তী কোনো লক্ষ্য নিয়ে ভাবছি না। লাল বলের ক্রিকেটে আমরা দল হিসেবে এখনো খুব বেশি অভিজ্ঞ নই। অধিনায়ক হিসেবে আমি সবসময় সিরিজ ধরে, কখনো কখনো সেশন ও ম্যাচ ধরে চিন্তা করি। সামনে প্রতিটি ম্যাচে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে নিশ্চয়ই সুযোগ তৈরি হবে, তবে এত দূরের চিন্তা এখন মাথায় আনছি না।’


প্রথম টেস্টের শুরুতেই বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত ও দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণের কথা উল্লেখ করে শান্ত বলেন, মূলত প্রথম সেশনের সেই পারফরম্যান্সই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের দিকে এনে দেয়। বিশেষ করে তরুণ পেসার হাসান মাহমুদের টানা বোলিংয়ের প্রশংসা করে তিনি জানান, ‘হাসান শুরু থেকেই অসাধারণ বল করেছে এবং সে ধারাবাহিকভাবে দলের জন্য পারফর্ম করে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সফরের ঠিক আগেই সে ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলে এসেছে এবং সেখানেও দারুণ সাফল্য পেয়েছে। ফলে ইংলিশ ও অজি কন্ডিশনে কীভাবে বল করতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা তাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।’


পেসারদের পাশাপাশি বাংলাদেশের অভিজ্ঞ স্পিন অ্যাটাকের ভূমিকার কথাও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন অধিনায়ক। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম এবং অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের অভিজ্ঞতা দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। শান্ত বলেন, ‘তাইজুল ও মিরাজ—দুজনেই অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও বিশ্বমানের স্পিনার। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে কন্ডিশনের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে মিরাজ। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বহু টেস্ট ম্যাচ খেলেছে এবং দলে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে শতভাগ স্পষ্ট। মাঠে তাদের এমন দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স দেখে অধিনায়ক হিসেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’


স্বাগতিকদের বিপক্ষে এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শান্ত কোনো বাড়তি চাপ নিতে রাজি নন। তিনি পুনরায় নিজেদের প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘এই জয় পুরো দলকে বিশাল আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই যেমন বলেছিলাম—আমাদের লক্ষ্য ছিল পুরো পাঁচ দিন নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলা। পরের টেস্টেও সেই একই দর্শন থাকবে। আমাদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে খেলতে হবে, প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জগুলো হাসিমুখে গ্রহণ করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত খেলাটা উপভোগ করতে হবে।’


এ সম্পর্কিত আরো খবর