গাজীপুরের টঙ্গীতে ৫১ নং ওয়ার্ডের কথিত যুবদল নেতা বেলাল খানের বিরুদ্ধে অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি ও প্রতারণার অভিযোগে গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই মামলায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জসিমকে গুলি, অস্ত্র ও দেশীয় ছুুরিসহ গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে টঙ্গীর সাতাইশ পূর্বপাড়া এলাকার মাসকোট্রেক্সের পেছনে কুলসুম নামে এক নারীর মালিকানাধীন বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে বেলাল খানের ক্যাডার জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ওই রাতেই টঙ্গী পশ্চিম থানায় সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় বেলাল খান ও জসিমকে আসামি করে মামলা (মামলা নম্বর-২১) দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের পরদিন আসামি জসিমকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মামলার প্রধান আসামি কথিত যুবদল নেতা বেলাল খান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অনিক নামে এক ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটকে রেখে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বেলাল খান ও তার সহযোগী জসিমকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্তে নেমে মামলার প্রধান আসামি বেলালকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তার বসতবাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।
এদিকে অভিযুক্ত বেলালের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলে ধরেছেন। স্থানীয়দের দাবি, সাতাইশ শরিফ মার্কেট এলাকার একটি বসতবাড়ি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন বেলাল খান। শুধু তা-ই নয়, ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারকৃত জসিম মূলত বেলাল খানের ডানহাত বা প্রধান সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং বেলালের অপকর্ম বাস্তবায়ন ও দখলদারিত্বে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেপ্তার জসিমের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক মামলাসহ ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক ধারায় মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশের দাবি, আটক জসিমকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এলাকায় তার ব্যবহৃত একটি ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। বাসার তালা ভেঙে তল্লাশি চালিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্রের ম্যাগাজিন, একটি পিস্তলের তাজা গুলি এবং লোহার তৈরি একটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব বিপজ্জনক আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত বেলাল খান টঙ্গীর সাতাইশ শরিফ মার্কেট এলাকার সামাল খানের ছেলে এবং ৫১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ডা. সজীব খানের চাচা। তার বিরুদ্ধে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য নিতে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, বেলাল খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামি পলাতক থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।