আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য বা প্রমাণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই স্পর্শকাতর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে আলাপকালে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট এমন কোনো বক্তব্য বা দাবিকে বাংলাদেশ একেবারেই সমর্থন করে না। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত তুলে ধরে তার দাবি, অতীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারও নানা সময়ে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। এটি তৎকালীন সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনেও এই বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়া হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সশরীরে কথা বলবেন বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সংকট ও শরণার্থী ইস্যুকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, এই জটিল সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে এগোচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ে কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে কিংবা প্রতিবাদ জানিয়েই এত বড় সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে না বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
তার ভাষ্য মতে, বিগত সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত কিছু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গা সংকটকে আরও বেশি জটিল ও দীর্ঘায়িত করে তুলেছে। মূল সংকটের শুরুতেই কার্যকর ও যথাযথ কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে পরিস্থিতি আজ এতটা কঠিন পর্যায়ে পৌঁছাত না বলেও তিনি মনে করেন। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সুরাহা না হওয়ায় সংকটটি ক্রমেই বিস্তৃত ও ভয়াবহ হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট ও এর উত্তরণ নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
পাশাপাশি, রোহিঙ্গা সংক্রান্ত নানা তথ্য ও পরিসংখ্যান নিয়ে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গেও বাংলাদেশ কোনোভাবেই একমত নয় বলে স্পষ্ট জানান শামা ওবায়েদ। তবে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনাকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য একাধিক সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দেশীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোও এই জাতীয় সংকট নিরসনে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সীমান্ত এলাকায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে দৃশ্যমান বা প্রকাশ্য কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে আরও বেশ কিছু অন্তর্বর্তীকালীন কাজ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।