স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক অভিযানের কারণে দেশের পরিবহন খাতের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগ এবং প্রায় আড়াই লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতি। একইসঙ্গে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এই ধরনের সাজানো অভিযান চালানো হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সদর দপ্তরে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাবু।
তিনি জানান, ২০১০ সাল থেকে টানা দীর্ঘসময় ধরে দেশের দূরপাল্লার মহাসড়কগুলোতে অত্যন্ত নিরাপদ ও জনপ্রিয় সেবাদানকারী হিসেবে স্লিপার বাস চলাচল করে আসছে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় এক হাজার উন্নতমানের স্লিপার বাস নিয়মিত চালু রয়েছে এবং এই খাতে উদ্যোক্তাদের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা আছে। দেশের দূরপাল্লার রুট ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাত্রী সাধারণকে আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের সুবিধা দেওয়ায় দিন দিন এর চাহিদাও বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহাসড়কে স্লিপার বাসের দুর্ঘটনার হার অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।
তৌহিদুল ইসলাম বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি বিশেষ সংঘবদ্ধ চক্র তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক সুবিধা হাসিল করতে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে এসব বাসের টিকিট বিক্রি, ভ্যাট ও রাজস্ব খাত থেকে সরকার নিয়মিত কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে। তা সত্ত্বেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না করে হঠাৎ অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ টাকা জরিমানা করা বাস মালিকদের জন্য চরম হয়রানি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্লিপার বাসের বৈধতার বিষয়টি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ এবং বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বাসের সুনির্দিষ্ট নকশা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের সনদপত্র জমাদানসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
তাই আদালতের রায় ও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বাস সেবা বন্ধ না করে একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানায় সমিতি। সরকারের গাইডলাইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল আধুনিক পরিবর্তন আনতে মালিক সমিতি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়। হঠাৎ করে সার্ভিস বন্ধ করে দিলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন এবং সরকারও বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।