দুই মাসের বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। পর্ষদ ছাড়া ব্যাংক চলতে পারে না উল্লেখ করে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিভিন্ন গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, একটি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ছাড়া চলতে পারে না। তাই দ্রুত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবীকে হুট করে পরিবর্তন করা এবং ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার কাইয়ুমকে পরিবর্তন করে একজন জুনিয়র আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়ার সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারের ভেতরে থাকা এস আলম গ্রুপের সুবিধাভোগীরা বিচারিক মামলায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এস আলম গ্রুপের পক্ষে রায় নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব পরিবর্তন করা হয়েছে। বিচারের নামে কোনো ধরনের প্রহসনের রায় ইসলামী ব্যাংকের সচেতন গ্রাহকেরা মেনে নেবেন না।
সমাবেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম সাত দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো:
অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা।
২০১৭ সালে পরিবর্তন হওয়া ব্যাংকের মালিকানা প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা।
ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করা।
এস আলমসহ ব্যাংক লুটেরাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করা।
ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনিয়মকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ করা এবং সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দেওয়া অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করা।
ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পরিবারের সম্পদ নয়। এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। দ্রুত এই সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে মহাসমাবেশসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, গ্রাহকদের আন্দোলন ও সমালোচনার মুখে ব্যাংকের বিতর্কিত চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর গত ১৫ জুন থেকে পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ জহির হোসেন চলতি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।