ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি ‘গর্হিত অপরাধ’: চিফ হুইপ


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:০৪ পিএম

ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিগত সরকারের করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে একটি ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অসম ও বিতর্কিত চুক্তির চরম খেসারত হিসেবে বাংলাদেশকে অত্যন্ত উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হচ্ছে। ফলে দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং এই অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনগণের ইতিবাচক সহযোগিতা অপরিহার্য।

বুধবার (২৬ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সার্বিক ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হতে যাওয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিলের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাকালে চিফ হুইপ এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই জটিল ও দীর্ঘদিনের জমে থাকা সংকট মোকাবিলা করতে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। কারণ কোনো নতুন সরকারের পক্ষে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সব জটিল সমস্যার রাতারাতি সমাধান করা বাস্তবে সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ইচ্ছা করে দারুণভাবে চেষ্টা করলেও ছয় মাসে নতুন একটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব নয়। সব ধরনের অনুকূল পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সুবিধা বিদ্যমান থাকলেও একটি আধুনিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণে সর্বনিম্ন দুই বছর সময় লেগে যায়।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জোর দিয়ে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ জাতীয় পরিসরের বড় অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। তাই সাময়িক ভোগান্তিতে জনগণকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। দেশে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তার সার্বিক ক্ষতি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের ওপর পড়ে না, বরং তার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর।

দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলোর ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে যেসব অপরিনামদর্শী চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল, তা দেশের ওপর এক দীর্ঘমেয়াদি ও অস্বস্তিকর অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে। বিশেষ এক দায়মুক্তির ব্যবস্থা বহাল রেখে এমন আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে এসব বিতর্কিত চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আইনি সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছিল। সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় হলো, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে কেবল কেন্দ্র বসিয়ে রেখেও বিশাল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় জনগণের কষ্টে অর্জিত রাজস্বের ওপর আজ অন্যায্য ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর