অনলাইন রিপোর্টার
অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ব্যাপক প্রসার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও বাণিজ্যিক কুরিয়ার সেবাগুলোর অতিরিক্ত মাশুল বা ডেলিভারি চার্জ সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে প্রান্তিক ও নতুন উদ্যোক্তারা চড়া পার্সেল খরচের কারণে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করতে বিপাকে পড়ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কম খরচে এবং দ্রুততম সময়ে গ্রাহকের কাছে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যুগান্তকারী ‘স্পিডপোস্ট’ সেবা কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। দেশের সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি দূর করে নির্ভরযোগ্য পরিবহন সুবিধা দেওয়াই এই সরকারি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ডাক বিভাগের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, স্পিডপোস্ট সেবায় প্রথম এক কেজি ওজনের পার্সেল বা পণ্য পাঠাতে গ্রাহকের খরচ হচ্ছে মাত্র ১০ টাকা। এরপর প্রথম কেজির অতিরিক্ত প্রতি কেজির জন্য মাশুল হিসেবে দিতে হবে মাত্র পাঁচ টাকা করে। এই নিয়মে একজন গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট পার্সেলে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত পণ্য দেশের যেকোনো প্রান্তে পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছেন। শুধু সাধারণ চিঠি বা কাগজপত্র নয়, শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, বোতলজাত তেলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য ও ভারী সামগ্রীও স্পিডপোস্টের মাধ্যমে নিরাপদ উপায়ে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। চড়া মাশুলের যুগে ডাক বিভাগের এই ১০ টাকার সেবা উদ্যোক্তাদের পরিবহন খরচ বহুগুণ কমাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পণ্য পৌঁছানোর গতি ও সময়ের বিষয়ে ডাক বিভাগ গ্রাহকদের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। সেবার প্রচারণায় ‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’ স্লোগানটি ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো জেলা শহর থেকে রাজধানী ঢাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। আবার এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে পার্সেল পৌঁছাতে সময় নেওয়া হয় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা। তবে দেশের অত্যন্ত প্রত্যন্ত ও ভৌগোলিক দিক থেকে দুর্গম এলাকাগুলোর ক্ষেত্রে পণ্য পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, প্রতি শুক্রবার দেশের সব পোস্ট অফিসে স্পিডপোস্টের পার্সেল বুকিং এবং বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
স্পিডপোস্টের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে চাইলে বুকিং প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। সার্ভিসটি নিতে গ্রাহককে দেশের যেকোনো জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর অথবা সাব-পোস্ট অফিসে সরাসরি যেতে হবে। সেখানে পণ্যটি ডাক বিভাগের নিয়ম মেনে সঠিকভাবে প্যাকেটজাত করে প্যাকেটের উপরিভাগে প্রেরক ও প্রাপকের নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা এবং সচল মোবাইল নম্বর স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। কাউন্টারে নির্ধারিত মাশুল বা ডেলিভারি চার্জ পরিশোধ করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রাহককে একটি ট্র্যাকিং নম্বর সংবলিত ডিজিটাল রসিদ দেবেন।
অনলাইনে পার্সেলের বর্তমান অবস্থান জানার জন্য ডাক বিভাগে সুনির্দিষ্ট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। গ্রাহকরা ঘরে বসেই ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে পণ্যের গতিপথ তদারকি করতে পারবেন। এমনকি বুকিং করার আগেই নির্দিষ্ট পণ্যের ওজন ও দূরত্ব অনুযায়ী কত মাশুল আসবে, তাও অনলাইনে দেখে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাজধানীতে এই সেবা আরও ছড়িয়ে দিতে ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমণ্ডি এবং ওয়ারীসহ মোট ২১টি প্রধান সাব-পোস্ট অফিসে সরাসরি পার্সেল গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা বুথ চালু রাখা হয়েছে।