নির্মাণকাজের মন্দা অবস্থা এবং বেচাকেনা তলানিতে ঠেকলেও হঠাৎ করেই দেশের বাজারে রড ও সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ঘরনির্মাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকল্পের সাথে যুক্ত ঠিকাদাররা।
ফরিদপুর অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম ছিল। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে গত এক বছর ধরে পাকা বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণের হার বেশ কমে গেছে। অনেক খুচরা ও পাইকারি দোকানে বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে, এমনকি এমন দিনও যাচ্ছে যেখানে কোনো লেনদেনই হচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বাড়ার পর হঠাৎ করেই টনপ্রতি রড ১ হাজার টাকা এবং বস্তাপ্রতি সিমেন্ট গড়ে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হতে শুরু করেছে।
বাজারের বর্তমান তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রড প্রতি টন ৮৩ হাজার থেকে সাড়ে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক দাম বাড়ার পর প্রতি টন রড অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, আগে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিমেন্ট ৪৮০ থেকে ৫৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রতি বস্তা ৫৫০ টাকায় ঠেকেছে।
স্থানীয় আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের কচি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাহবুব রহমান কচি জানান, গত দুই দিনের ব্যবধানে রডের দাম টনপ্রতি ১ হাজার টাকা বেড়েছে এবং সিমেন্টের দাম প্রতি ব্যাগে ২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বর্তমানে দোকানে বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে। আগে যেখানে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সিমেন্ট ও রড বিক্রি হতো, এখন মন্দার কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সামনে শীতকাল বা বছরের শেষভাগে নতুন ইট বাজারে আসলে এবং কাজের পরিধি বাড়লে চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
একই ধরনের হতাশার সুর শোনা গেছে সাধারণ ক্রেতা ও চাকরিজীবীদের কণ্ঠে। রাকিবুল হাসান টোকন নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান আয়ে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে বর্ধিত দামে রড-সিমেন্ট কিনে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার শাহিনুজ্জামান খান বলেন, বর্তমানে বড় পরিসরে সরকারি কাজের চাপ কম থাকায় রড ও সিমেন্টের চাহিদা এমনিতেই কম ছিল। এর মধ্যে তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ ও সামগ্রিক ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সাধারণত পরিবহন ও উৎপাদন খরচে তার প্রভাব পড়ে। তবে কোনো ব্যবসায়ী অহেতুক সিন্ডিকেট তৈরি করে বা বাজার অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে কি না, সে বিষয়ে তাদের নজরদারি ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে।