ক্রীড়া ডেস্ক
ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং আলোড়ন সৃষ্টিকারী আইনি লড়াইয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গঠিত স্বাধীন কমিশনের প্রাথমিক রায়ে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে শুরু করে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত দীর্ঘ নয়টি বছর ধরে ক্লাবের আয়ের প্রকৃত তথ্য গোপন রাখা, তৎকালীন কোচ রবার্তো মানচিনির গোপন বেতন কাঠামো পরিচালনা এবং খেলোয়াড়দের চুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন আর্থিক গরমিলের গুরুতর অভিযোগ ছিল সিটির বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি, উয়েফার ফেয়ার প্লে রুলস এবং প্রিমিয়ার লিগের লাভজনকতা ও টেকসইকরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা না করার অভিযোগও তুলেছে কমিশন।
স্বাধীন কমিশন দোষী সাব্যস্ত করলেও সিটির ওপর ঠিক কী ধরনের শাস্তি আরোপ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে প্রিমিয়ার লিগের কঠোর বিধান অনুযায়ী কমিশনের হাতে অত্যন্ত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে। ক্লাবটির বিরুদ্ধে চলতি বা আগামী মৌসুমে বিশাল অঙ্কের পয়েন্ট কর্তন, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জেতা সব প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা প্রত্যাহার, কিংবা প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরাসরি বহিষ্কার করে নিম্ন স্তরের লিগে অবনমিত করার মতো চরম শাস্তি আসতে পারে। এর পাশাপাশি আকাশচুম্বী আর্থিক জরিমানা এবং নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার খড়্গও ঝুলছে ক্লাবটির মাথার ওপর।
প্রাথমিক এই রায়ের পর ম্যানচেস্টার সিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে যে, আইনি লড়াই এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং ক্লাব তাদের নির্দোষ দাবির পক্ষে অনড় অবস্থানে রয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আপিল বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিয়মানুযায়ী, এই আপিল প্যানেল তিনজন সদস্য নিয়ে নতুন করে গঠন করা হবে। তবে প্রিমিয়ার লিগের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এই মামলা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, ফলে আপিল বোর্ডের রায়ই ক্লাবের জন্য চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
এদিকে ম্যানসিটির এই বিশাল আর্থিক অনিয়মের রায়ের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী শীর্ষ ক্লাবগুলোও। লিভারপুল, আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং টটেনহ্যামের মতো হেভিওয়েট ক্লাবগুলো ইতোমধ্যে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথ প্রশস্ত করেছে। অতীতে ম্যানসিটির এই ধরনের অবৈধ আর্থিক সুবিধার কারণে যারা শিরোপা বা চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসর থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তারা কোটি কোটি পাউন্ডের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।