স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানী ঢাকাকে একটি দৃষ্টিনন্দন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদনদীগুলোকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নগরীর অভ্যন্তরীণ খালগুলো পুনরুদ্ধার এবং এর দুপ্রান্তে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন নন্দীপাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ জিরানী খাল সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই বিশেষ পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, এমপি। দুই প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীর এই যৌথ উপস্থিতি স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহলে দারুণ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ২৬টি এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৯টি খালের দুই পাড় জুড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী টেকসই রিটেইনিং ওয়াল এবং আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন শহরের পরিবেশের নান্দনিক সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে ভূমিখেকোদের অবৈধ দখলদারিত্ব চিরতরে রোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে উন্মুক্ত বিনোদন, হাটাচলা ও নিরাপদ চলাচলের চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীর অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সরাসরি নদীতে না ফেলে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিতে শোধন করে পুনরায় নদীতে ফেলার কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই মহৎ লক্ষ্য দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়েছে এবং তারা মাঠপর্যায়ে পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমরা রাতারাতি দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেওয়ার কোনো অবাস্তব ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। বরং বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও আধুনিক বাসযোগ্য ঢাকা নগরী গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।" তবে তিনি এ কথাও পরিষ্কার করে দেন যে, কেবল সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমেই নদী-খাল রক্ষা বা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা কোনোভাবেই একা সম্ভব নয়। এই রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগে ঢাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্তরের নাগরিক সমাজকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও সর্বাত্মক প্রশাসনিক সহযোগিতার সুদৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
এ সময় রেলপথ ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনের মাধ্যমেই ঢাকাকে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় নগরী হিসেবে রূপান্তর করতে হবে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এলাকার মৌলিক সমস্যা ও নাগরিক দুর্ভোগের চিত্র যথাযথভাবে তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণ ও টেকসই উন্নয়ন সাধনে সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই সরকার কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং কাজে বিশ্বাস করে। জনগণের কল্যাণার্থে গৃহীত প্রতিটি যুগোপযোগী উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করে তার সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এলাকাবাসীর আন্তরিক ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল স্বপ্ন হলো একটি দৃষ্টিনন্দন, পরিচ্ছন্ন এবং আন্তর্জাতিক মানের বাসযোগ্য ঢাকা নগরী গড়ে তোলা। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারের বহুমুখী নীতিগত পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীর সজাগ দৃষ্টি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত অপরিহার্য।
উক্ত পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিনসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ।