ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পোল্ট্রি বর্জ্যে অতিষ্ঠ চাঁদখালী বাজারের পথচারী-ব্যবসায়ীরা


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:২৯ পিএম

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী বাজারের জনবহুল এলাকায় পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুর্গন্ধ, মাছির উপদ্রব ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। মুরগি জবাইয়ের পর রক্ত, বর্জ্য ও উচ্ছিষ্ট যথাযথভাবে অপসারণ না করায় বাজারের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে আশপাশের ব্যবসায়ী, ক্রেতা, পথচারী ও আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা অস্বস্তিতে পড়ছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাঁদখালী বাজারের বড় বটগাছ ও রাহাজ্জানের দ্বিতল ভবনের নিচের ভাড়া করা দুটি ঘরে শাহিন গাজী ও মোছলেম গাজী পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ঘর দুটির মালিক জুলফিকার গাজী ও করিম গাজী। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির আশপাশে রয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট ও বসতবাড়ি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরগি জবাইয়ের পর রক্ত, বর্জ্য ও উচ্ছিষ্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও অপসারণ করা হয় না। ফলে সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে জমে থাকা বর্জ্যকে কেন্দ্র করে মাছির উপদ্রবও বাড়ছে। এতে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের ব্যবসায়ীদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতা ও পথচারী জানান, ওই স্থান দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধের কারণে তাদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে মুরগি জবাইয়ের পর বর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।


পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী ও নেহা টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী দীপংকর রায় বলেন, দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবের কারণে দোকানে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। মাছি এসে কাপড়ের ওপর বসে। এতে ক্রেতাদের দেওয়া নতুন কাপড় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ক্রেতারাও অস্বস্তি প্রকাশ করেন।

আরেক ব্যবসায়ী ব্রজলাল সরকার বলেন, এখানে পোল্ট্রি ব্যবসা পরিচালনার কারণে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বাজারে আসা ক্রেতারাও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে ঘরের মালিক ভাড়া দিলে তাদের তেমন কিছু করার থাকে না। বর্তমানে বাজার কমিটিও না থাকায় অভিযোগ জানানোর মতো কার্যকর কোনো জায়গা নেই বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী শাহিন গাজী বলেন, তিনি টাকা দিয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। এ বিষয়ে তাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তাদের নির্দিষ্ট বসার কোনো জায়গাও নেই বলে জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মণ্ডল বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, বাজারের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে স্থানটি পরিদর্শন করুক। একই সঙ্গে পোল্ট্রি বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ ও সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর