ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কালীমূর্তি চুরি, ছয় দিনে উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৪


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:৪২ পিএম

মাহফুজুর রহমান বিপ্লবঃ ফরিদপুর

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দির থেকে চুরি যাওয়া কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার ও বিভিন্ন প্রতিমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের দাবি, ঘটনার ছয় দিনের মধ্যেই কালীমূর্তিসহ চুরি যাওয়া অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরের কালীমাতাকে শয়ন দিয়ে দরজা-জানালায় তালা লাগিয়ে চলে যান মন্দিরের সেবায়েত ও কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ভোরে পূজা করতে এসে তিনি মন্দিরের তালা কাটা ও দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ভেতরে গিয়ে কালীমূর্তিটি দেখতে না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

এ সময় মূর্তির গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার, পিতলের বিভিন্ন প্রতিমা এবং রৌপ্যের অলংকারও চুরি যাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। কুশল চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়।

মামলার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কোতোয়ালি থানা, গোয়েন্দা পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একাধিক দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারী উপজেলার কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং বোয়ালমারী এলাকার আতিয়ার রহমান।

পুলিশ জানায়, সাজেদা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার এবং ছয়টি পিতলের প্রতিমা উদ্ধার করা হয়। পরে আসাদুজ্জামান সাদ্দাম ও আল আমিন মোল্লার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বোয়ালমারীর রুপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া সাদ্দামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারী বাজারের স্বর্ণপট্টির একটি জুয়েলারি দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, দোকানটির মালিক আতিয়ার রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চুরি যাওয়া প্রতিমার কানের দুল, টিকলিসহ অন্যান্য অলংকার গলিয়ে তৈরি করা প্রায় আট আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, চুরি যাওয়া কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটির ওজন প্রায় ২০ কেজি এবং আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা। মূর্তির গায়ে থাকা প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন পিতলের প্রতিমা ও প্রায় ৩০ ভরি রৌপ্যের অলংকার চুরি হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। আল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধেও একই ধরনের আটটির বেশি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি বলেন, শুরুতে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র না থাকায় ঘটনাটি ক্লু-লেস মনে হলেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ছয় দিনের মধ্যে কালীমূর্তিসহ অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার ও অন্যান্য প্রতিমাসহ সব আলামত মামলার তদন্তের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর