ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিংগাইরে জমজমাট নৌকাবাইচ, চ্যাম্পিয়ন কসাইবাড়ি


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:০৭ পিএম

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক

বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কালীগঙ্গার দুই পাড়ে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। নদীর বুকে ছুটে চলে একের পর এক নৌকা, বৈঠার ছন্দে তৈরি হয় প্রতিযোগিতার উত্তেজনা। শনিবার মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জামশা ইউনিয়নের মাটিকাটা গোলাই-বালুরচর এলাকায় অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

দক্ষিণ মাটিকাটা গ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতা চলে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিট পর্যন্ত। স্থানীয় গোলাই, জামশা, বাস্তা, সারারিয়া, দাড়িপাড়া ও বরন্ডি গ্রামের সহযোগিতায় আয়োজিত এ নৌকাবাইচে সিংগাইরের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকেও নৌকা অংশ নেয়।


প্রতিযোগিতায় মোট ১০টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। এগুলোর মধ্যে ছিল উড়িয়াবাজ, প্রবাসী, কসাইবাড়ি, একতা-২, মাসুদ রানা, ঐতিহ্য, সোনার তরী, কাইলান তুফান মেইল ও হাতনির রাজ। কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে প্রতিযোগিতা গড়ায় চূড়ান্ত পর্বে।

শেষ ধাপে নৌকাগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। প্রতিযোগিতায় অন্য নৌকাগুলোকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করে কসাইবাড়ি নৌকা। দ্বিতীয় হয়ে রানার্সআপ হয় মাসুদ রানা নৌকা।

আয়োজকেরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় মোট পাঁচটি ধাপ ছিল। প্রতিটি ধাপেই নদীর দুই পাড়ে জড়ো হওয়া দর্শকেরা নৌকার গতি ও মাঝিদের বৈঠার ছন্দ উপভোগ করেন। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

নটরডেম কলেজের প্রভাষক উমর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী ইয়াকুব হোসেন রাজা।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন কবির, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম, চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল মজিদ, সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ও আবদুল মান্নানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের জন্য ছিল মোটরসাইকেল। এ ছাড়া অন্য বিজয়ী দলগুলোকে চারটি ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়ানো এবং আনন্দের পরিবেশ তৈরি করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।


এ সম্পর্কিত আরো খবর