ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু আক্রান্ত স্বামীর পাশে স্ত্রী, হাসপাতালেই কাটছে দিন-রাত


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:১২ পিএম

ডেঙ্গু আক্রান্ত স্বামীকে একা হাসপাতালে রেখে যেতে পারেননি সেলিনা। ঢাকায় ভ্যান চালানো স্বামী আবুল কাশেম জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে তিন ছেলেকে বাড়িতে রেখে ছুটে এসেছেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে। শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসাধীন স্বামীর পাশেই এখন দিন-রাত কাটছে তার।

সেলিনার ভাষায়, ‘ঢাকায় ভ্যানগাড়ি চালায়। জ্বর হইলে একলা কেমনে থাইকবো? হিয়াল্লাই কইছি, চলি আইয়েন। আঁই আন্নের সেবা করিয়াম।’

৪০ বছর বয়সী আবুল কাশেম লক্ষ্মীপুরের চর রমনী মোহন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পেশায় ভ্যানচালক তিনি। প্রায় ছয় বছর ধরে ঢাকার মিরপুর-১৩ এলাকায় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। স্ত্রী সেলিনা ও তিন ছেলেকে নিয়ে তার সংসার।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জ্বরে ভুগছিলেন আবুল কাশেম। কয়েক দিনেও জ্বর না কমায় ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

স্বামীর অসুস্থতার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন সেলিনা। বর্তমানে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন আবুল কাশেম। শয্যা না থাকায় মেঝেতেই তাকে থাকতে হচ্ছে। পাশে বসে স্বামীর প্রয়োজনীয় সেবা করছেন সেলিনা।

আবুল কাশেমের মতো লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আরও ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে চারজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে রয়েছেন ভবানীগঞ্জের চর মনসা গ্রামের ৫০ বছর বয়সী আলমগীর। চট্টগ্রামে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মো. আরিফ। তার বাড়ি চন্দ্রগঞ্জের ৩ নম্বর উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবু ছিদ্দিক এলাকায়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. অরুপ পাল জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় চারজন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ডা. অরুপ পাল বলেন, ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত রোগ। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জ্বর, শরীরব্যথা ও দুর্বলতাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নেওয়া আবুল কাশেমের পাশে অপেক্ষায় রয়েছেন সেলিনা। স্বামী দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন—এই আশাতেই হাসপাতালের দিন-রাত কাটছে তার।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর