ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫ বোয়িংয়ের পাশাপাশি এবার ১০ এয়ারবাস কিনছে সরকার


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:৫৬ পিএম

দেশের এভিয়েশন খাতের অপারেশনাল সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান ক্রয়ের পাশাপাশি এবার ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ সংগ্রহের বড় ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেশের এভিয়েশন খাতের এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান যে, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই এয়ারবাসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বিমান বহর সমৃদ্ধ করার লক্ষে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। ওই চুক্তির আওতায় প্রদত্ত অতিরিক্ত উড়োজাহাজ ক্রয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত গত ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। নতুন এই ১১টি বিমানের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো বডি বিমান। আগের চুক্তির নির্ধারিত একই মূল্যে সম্পূরক এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন মন্ত্রী।


সব মিলিয়ে বর্তমানে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তিবদ্ধ উড়োজাহাজের মোট সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে। এর মধ্যে ১৫টি ওয়াইড বডি বিমানের মধ্যে রয়েছে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০ মডেলের বিমান। পাশাপাশি ১০টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো বডি বিমানও এই বহরে যুক্ত হচ্ছে। এর বাইরেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি এ৩২১ নিও ন্যারো বডি উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। একটি টেকসই, ভারসাম্যপূর্ণ ও মিশ্র উড়োজাহাজ বহর গড়ে তুলতেই মূলত এই বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


ভবিষ্যৎ যাত্রী চাহিদা, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটের পরিধি, বিমানের সুনির্দিষ্ট পাল্লা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, ফ্লাইটপ্রতি সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেই ওয়াইড বডি ও ন্যারো বডি বিমানের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন রুটগুলোর পাশাপাশি ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে ওয়াইড বডি বিমানগুলো পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক এবং স্বল্প দূরত্বের রুটগুলোতে ন্যারো বডি বিমানগুলো সেবা দেবে। এছাড়া বিমানের পুরোনো হয়ে যাওয়া বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানগুলোও এই নতুন বহরের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রতিস্থাপন করা হবে।


বহর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আফ্রিকান অঞ্চলের সফল উদাহরণ হিসেবে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ব্যবসায়িক ও অপারেশনাল মডেল অনুসরণের ওপর বিশেষ জোর দেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বহরে বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে মাত্র ১৯টি বিমান। দেশের মোট এভিয়েশন বা বিমান পরিবহন চাহিদার মোটে ২০ শতাংশের কিছু বেশি পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে বিমান, আর বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ বিশাল বাজার বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে চলে যাচ্ছে। এই করুণ চিত্র বদলাতেই সরকার সময়োপযোগী ও সাহসী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।


বিশাল অংকের এই বিমান ক্রয়ের অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক আয় এবং উপযুক্ত আন্তর্জাতিক অর্থায়নের মাধ্যমে নতুন উড়োজাহাজগুলোর মূল্য পরিশোধ করা হবে। যেহেতু বিমানগুলোর সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে, তাই এর আর্থিক পরিশোধও পর্যায়ক্রমে করা হবে। ফলে এই বিশাল কেনাকাটার কারণে সরাসরি দেশের জাতীয় বাজেটের ওপর কোনো ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর