ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের চলমান সংঘাতের অচলাবস্থা নিরসনে অবশেষে কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি নতুন মোড় এসেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। এই কূটনৈতিক অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন। বুধবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগদানের সময় তাঁর সঙ্গে ইউরোপীয় ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের যে কূটনৈতিক বৈঠক হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা তিনি মন্ত্রিসভায় তুলে ধরেন। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরান যে সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো পেশ করেছিল, তার প্রেক্ষাপটেই মার্কিন এই প্রস্তাব এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই প্রস্তাবে ঠিক কী ধরনের রূপরেখা বা শর্ত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই জলপথ উন্মুক্ত করার এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অনাস্থা ও সংঘাতের বরফ গলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল ও জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় এর নিরবচ্ছিন্ন চলাচল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর আগে ইরান বারবার জানিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ এবং বৈষম্যমূলক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে এই জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তেহরান ইতিবাচক মনোভাব দেখাতে পারে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।
এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার বিকল্প নেই। মার্কিন প্রস্তাব পাওয়ার পর ইরানের নীতিনির্ধারক মহল এটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতা এবং কূটনৈতিক সদিচ্ছার ওপরই নির্ভর করছে এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির স্থায়ী কোনো সমাধান আসবে কি না।