কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি এবং নানা ধরনের আপত্তিকর ডিজিটাল কনটেন্টের অপপ্রচারের শিকার হয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটে অবশেষে বড় ধরনের আইনি সুরক্ষা ও স্বস্তি পেলেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়, কণ্ঠস্বর এবং নাম বিনা অনুমতিতে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক চাঞ্চল্যকর মামলায় বম্বে হাইকোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন রায় প্রদান করেছেন। আদালতের এই নির্দেশ অনুযায়ী, অভিনেত্রীর নাম ও অবয়ব জড়িয়ে তৈরি সমস্ত অননুমোদিত ডিজিটাল কনটেন্ট সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলার কঠোর হুকুম জারি করা হয়েছে।
চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সাইবার দুনিয়ায় প্রযুক্তির চরম অপব্যবহারের কারণে বর্তমানে শিল্পীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি সামান্থা রুথ প্রভুর ক্ষেত্রেও ঠিক একই ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাঁর কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন ই-কমার্স পোর্টাল এবং অন্যান্য ভার্চুয়াল মাধ্যমে তাঁর মুখাবয়ব ও কণ্ঠস্বর বিকৃত করে আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এই ধরনের বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের সাধনায় অর্জিত তাঁর সামাজিক সুনাম ও মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছিল, অন্যদিকে তাঁর মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারও চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছিল। এই অগ্রহণযোগ্য সাইবার হেনস্তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এবং নিজের ব্যক্তিত্বের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন এই তারকা।
গত ১ অক্টোবর বম্বে হাইকোর্টের সম্মানিত বিচারপতি মাধব জামদারের একক বেঞ্চ এই বহুল আলোচিত মামলার শুনানিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন। আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত বিভিন্ন বিকৃত ছবি, এআই-নির্মিত ডিপফেক ভিডিও এবং অন্যান্য আপত্তিকর ডিজিটাল উপাদানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেন আদালত। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিচারক স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের ভুয়া ও বেআইনি কনটেন্টগুলো সরাসরি সামান্থার ‘পার্সোনালিটি’, ‘পাবলিসিটি’ এবং আইনগতভাবে সুরক্ষিত ‘নৈতিক অধিকার’-এর ওপর সরাসরি ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আদালত অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে অনুধাবন করেছে যে, একজন জনপ্রিয় শিল্পীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচিতিকে এ ধরনের অনৈতিক উপায়ে অপব্যবহার করার পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।
আইনজীবীদের পেশাদার ও জোরালো যুক্তিতর্ক এবং পর্যাপ্ত ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আদালত সংশ্লিষ্ট সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। এই আদেশের ফলে সামান্থার পরিচয় ও অবয়ব ব্যবহার করে তৈরি করা যেকোনো ধরনের অননুমোদিত, ভুয়া ও বিকৃত কনটেন্ট অবিলম্বে ইন্টারনেট বা সংশ্লিষ্ট মাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হবে। সাইবার অপরাধ এবং এআই অপব্যবহারের বর্তমান যুগে তারকাদের ব্যক্তিগত অধিকার ও মানহানি রোধের এই আইনি লড়াইয়ে বম্বে হাইকোর্টের এই সময়োপযোগী নির্দেশকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। ধারণা করা হচ্ছে, এই রায়ের পর ডিজিটাল দুনিয়ায় ডিপফেক ও ভুয়া কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা কিছুটা হলেও কমে আসবে এবং সাইবার অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হবে। সূত্র: দ্য ওয়াল