গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৭০ বছর বয়সে চিরবিদায় নিয়েছেন আশির ও নব্বইয়ের দশকের প্রখ্যাত মার্কিন আরঅ্যান্ডবি (R&B) সংগীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ফ্রেডি জ্যাকসন। তাঁর এই প্রয়াণে বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর রেখে যাওয়া অসামান্য সব সৃষ্টি ও সুরের মূর্ছনা সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে তাঁকে চিরকাল অমর করে রাখবে।
আশির ও
নব্বইয়ের দশকে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা একাধিক জনপ্রিয় হিট গানের স্রষ্টা ছিলেন ফ্রেডি জ্যাকসন। তাঁর সুমধুর ক্যারিয়ারে ‘রক মি টু
নাইট (ফর ওল্ড টাইমস
সেক)’, ‘হ্যাভ ইউ এভার লাভড
সামবডি’ এবং ‘ইউ আর মাই
লেডি’-র মতো গানগুলো
বিলবোর্ড তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছিল। তাঁর স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত কণ্ঠস্বর ও আবেগঘন পরিবেশনা
তাঁকে সে সময়ের শীর্ষ
সারির আরঅ্যান্ডবি শিল্পীদের কাতারে উন্নীত করেছিল। মূল ধারার সংগীতের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও রেখে গেছেন তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর। আইরিন কারার সঙ্গে গাওয়া ‘লাভ সার্ভাইভস’ দ্বৈত গানটি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘অল ডগস গো
টু হেভেন’-এর জন্য বিশেষ
জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এছাড়া জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘দ্য গোল্ডেন গার্লস’ এবং ‘ফ্যামিলি ম্যাটার্স’-এ তাঁর উপস্থিতি
ভক্তদের মনে গভীর দাগ কেটেছিল।
নিউ ইয়র্ক
সিটিতে জন্ম নেওয়া ফ্রেডি জ্যাকসনের সংগীতের হাতেখড়ি হয়েছিল শৈশবেই। হার্লেমের হোয়াইট রক ব্যাপ্টিস্ট চার্চে
গসপেল সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তিনি সুরের ভুবনে নিজের পদচারণা শুরু করেন। সত্তরের দশকের শেষভাগে তিনি আরঅ্যান্ডবি ব্যান্ড ‘মিস্টিক মারলিন’-এর সঙ্গে যুক্ত
হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রথম ধাপ পার করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন দিগন্তের
সূচনা ঘটে। তাঁর অসামান্য প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দুটি গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। এছাড়া ১৯৮৮ সালের জনপ্রিয় প্রেমের গান ‘নাইস ‘এন’ স্লো’-এর জন্য তিনি
মর্যাদাপূর্ণ আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
সংগীতের সোনালী
সময়ে ফ্রেডি জ্যাকসন কেবল একজন সফল কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একাধারে স্টেজ পারফর্মার এবং সুরের জাদুকর। তাঁর গানগুলো সেকালের রোমান্টিক জীবনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে তাঁর গাওয়া ক্লাসিক আরঅ্যান্ডবি ট্র্যাকগুলো তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে এক অনন্য স্থান
করে নিয়েছিল। ‘রক মি টু
নাইট’ বা ‘ইউ আর মাই
লেডি’র মতো গানগুলো
যখন রেডিওতে বাজত, তখন পুরো মার্কিন মুলুকসহ বিশ্বজুড়ে এক অন্যরকম উন্মাদনা
তৈরি হতো। টেলিভিশন দুনিয়াতেও তাঁর পদচারণা ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। ‘দ্য গোল্ডেন গার্লস’ এবং ‘ফ্যামিলি ম্যাটার্স’-এর মতো বহুল
পরিচিত আমেরিকান সিটকম ও টিভি শোতে
তাঁর পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছিল যে তিনি শুধু
রেকর্ড স্টুডিওর গায়ক নন, বরং পর্দায়ও সমানভাবে প্রতিভাবান।
নিউ ইয়র্কের
সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চ জয় করার এই
গল্পটি তরুণ শিল্পীদের জন্য সবসময় অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে থাকবে। গির্জার চ্যাপেল থেকে শুরু করে বড় বড় স্টেজ
শো—প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর একাগ্রতা ও নিখুঁত সুরবোধ
তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড জয় এবং গ্র্যামি
মনোনয়নের মতো সম্মাননা তাঁর পেশাদার জীবনের মুকুটে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। ফ্রেডি জ্যাকসনের জীবন ও কাজ কেবল
চার্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা লাখো মানুষের
ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। শোকস্তব্ধ ভক্ত ও সহকর্মীরা এখন
তাঁর অফিসিয়াল গেস্টবুকে স্মৃতিচারণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ফ্রেডি জ্যাকসনের সুর এবং তাঁর মায়াবী কণ্ঠস্বর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে
মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। সূত্র: লেগ্যাসি নিউজ স্টাফ