উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 50
নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে খোয়া যাওয়া নিজের মূল্যবান ম্যাকবুক ল্যাপটপ এবং ডিএসএলআর ক্যামেরা উদ্ধারের আশায় বর্তমানে রাজশাহীতে অবস্থান করছেন এক জার্মান পর্যটক। ক্রিল ল্যান্ডার নামের এই বিদেশি নাগরিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় সহযোগিতায় তার ব্যক্তিগত তথ্যসমৃদ্ধ ডিভাইসটি ফিরে পাওয়ার জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ক্রিল ল্যান্ডার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কাজটি বেশ কঠিন হলেও তিনি ধীরে ধীরে সঠিক লোকেশনের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি তার জিনিসপত্র উদ্ধারে পুলিশ কর্মকর্তাদের আন্তরিক ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বগুড়া ভ্রমণ শেষে সান্তাহার থেকে ট্রেনে দর্শনার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ভুলবশত নাটোর স্টেশনে নেমে পড়েন ওই জার্মান পর্যটক। পরে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের প্রথম শ্রেণির বিশ্রামকক্ষে টিকিট কাটার জন্য এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় তিনি নিজের ব্যাগটি এক ব্যক্তির কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে রেলওয়ের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও টাকা তুলে ফিরে এসে ক্রিল ল্যান্ডার দেখতে পান যে, ওই ব্যক্তি ও তার ব্যাগ—দুটিই উধাও। ব্যাগের ভেতরে তার ম্যাকবুক ল্যাপটপ, ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সংরক্ষিত ছিল। ঘটনার পরপরই তিনি নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালান।
ল্যাপটপের খোঁজে বুধবার রাতেই রাজশাহীতে আসেন ক্রিল ল্যান্ডার। রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, ল্যাপটপে কোনো সিম কার্ড না থাকায় সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত অবস্থান শনাক্ত করা কিছুটা জটিল হচ্ছে। প্রথমে ডিভাইসটির লোকেশন রাজশাহীর রেলগেট এলাকা এবং পরবর্তীতে মহিলা কলেজের আশপাশে দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং র্যাবের সদস্যরা যৌথভাবে ওই এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন। এমনকি ল্যাপটপটি যেন কেউ কম দামে বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও মেসের মালিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া বুধবার সকালে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে অবস্থান শনাক্ত করে তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনেও তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ইতিমধ্যে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে, যা অপরাধী শনাক্তকরণে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। বিদেশি এই পর্যটককে দেশের মেহমান হিসেবে সম্মান জানিয়ে তার হারানো জিনিসপত্র দ্রুত উদ্ধার করতে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।