সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 19
মাদার অব রিভার খ্যাত যমুনা নদীতে নিষিদ্ধ ও ধ্বংসাত্মক উপায়ে মাছ ধরার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। এর অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে বৈদ্যুতিক শক বা ইলেকট্রিক ফিশিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাছ শিকারের সময় হাতেনাতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ।
সদর উপজেলার পাঁচগাছির চর ও সংলগ্ন বেলুটিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ক্রসবার বাঁধ এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। নৌ পুলিশের আকস্মিক এই অভিযানে আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—বেলুটিয়া দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মজিদ (২৬), আসলাম (৩৮), আব্দুল কাদের (২০), সুমন মোল্লা (২০) এবং ইউসুফ আলী। তবে অভিযানের সময় আরও বেশ কয়েকজন অপরাধী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু চক্র ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে নদীর তলদেশে অবৈধভাবে ইলেকট্রিক ফিশিং চালিয়ে আসছে। এই মারাত্মক উপায়ে মাছ শিকারের ফলে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন সুস্বাদু মাছের পোনা এবং নদীর ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী ও জলজ উদ্ভিদ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যা প্রাকৃতিকভাবে যমুনার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক ও অপূরণীয় হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগে ধৃতদের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নদীমাতৃক এই অঞ্চলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নৌ পুলিশের নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।